Posts

সুন্দর করে বাঁচতে চাই আমি

Image
অনেক চেষ্টা চালিয়েও বিয়েটা ভাঙ্গতে সক্ষম হইনি। কালো বেটে লোকটার সঙ্গেই বিয়েটা হয়ে গেল। আমার পাশে এমন একটা লোক'কে কিছুতেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় আমার পক্ষে! তবুও আমি এখন তার বিবাহিত স্ত্রী। আমার কুঁচকানো নাক চোখ দেখেই ভদ্রলোক বুঝে গিয়েছেন আমার তাকে পছন্দ হয়নি। কষ্ট করে আর মুখ ফুটে তাকে বলতে হয়নি যে এই বিয়েতে আমি কিঞ্চিৎ পরিমাণেও সন্তুষ্ট নয়। এতে তার মন খারাপ হয়েছে কী না জানি না। জানার প্রয়োজনও মনে করি না। কষ্ট পেলে পাক! তাতে আমার কী! আমার তাকে অপছন্দ, এটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মা'কে আকুতি করে, রেগে, বিরক্ত হয়ে অনেকভাবে অনেকবারই বলেছি যে এই ছেলেকে আমি বিয়ে করবো না। কিন্তু মা কানেই তুললো না।  বরং যতবার বলেছি অপছন্দের কথা ততবারই মা বলেছে, 'শোন বাহ্যিক সৌন্দর্য দিয়ে কিছুই হয় না। ভালো থাকার জন্য চাই একটা ভালো মানুষ। আর ভালো মানুষ সে হয়, যার উপর নয় ভেতরটা ভালো। আমরা তোর জন্য একজন ভালো মানুষ খুঁজে পেয়েছি৷ মুবিন খুবই ভালো ছেলে। তুই খুব ভালো থাকবি।' 'ভালো থাকবো না ছাই! যে মানুষটাকে দেখেই ভালো লাগে না, তার সঙ্গে ভালো থাকা অসম্ভব।' 'দেখে শুনেই তো প্রেম...

আমি প্রতারনার শিকার মাত্র

Image
- প্রতিদিন আমার আর এ ঘ্যানঘ্যান ভালো লাগছেনা লুবানা এবার আমায় মুক্তি দাও অফিস থেকে আসলে তোমার একটা না একটা সমস্যা আছে। কথা গুলো বলে আসিফ বিরক্ত হয়ে আবার মোবাইল টিপতে থাকে। লুবানা আসিফের কথা শুনে হতভম্ব  হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।  ইদানিং আসিফ কেমন যেনো হয়ে গেছে সব সময় মেজাজ নিয়ে থাকে,যেটা ওর স্বভাবের বিপরীত লুবানা আগের আসিফের সাথে এখন আসিফের মিল খুঁজে পাইনা।সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে। - আমার কথা তোমার কাছে ঘ্যানঘ্যান মনে হয়? কই আগেতো কখনো মনে হতোনা সব সময় বলতে লুবানা তুমি কথা কম বললে আমার ভালো লাগেনা এখন তোমার কাছে আমাকে বিরক্ত লাগে। লুবানা কান্না ভেঙে পড়ে  আসিফ আবারও বিরক্ত হয়ে বলে - তোমার এ ন্যাকা কান্না দেখলে আমার আরও বেশি বিরক্ত লাগে তুমি কি সেটা জানো? আসিফের কথা শুনে লুবানা শব্দ করে  কেঁদে উঠে ওদের চেঁচামেঁচি শুনে আসিফের মা এসে বলে - তোরা কি মানুষ কি শুরু করছিস প্রতিদিন তোদের যে একটা মেয়ে আছে সেটা ভুলে গেছিস? ও কি ভাবছে তোদের সম্পর্কে।  লুবানা শাশুড়ীর কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে বলে - মা আমি কি এমন বলছি আমি শুধু ওকে বললাম আমার অনেক কাজ পড়ে আছে তুমি ...

বিয়ের দুই মাস পরের রাত

Image
বিয়ের দুই মাস পরের রাত ………   মিষ্টি__এভাবে চলতে পারে না।   সিজান__আমি নিরুপায়, জানি অন্যায় করছি কিন্তু পাপ করতে চাচ্ছি না। মিষ্টি__নিজের স্ত্রীর সাথে ঘুমানো পাপ, কেন এমন ভাবছো?তাহলে কি……    সিজান__তোমাকে মিথ্যে বলবো না।রুপা নামের একটা মেয়েকে ভীষণ ভালোবাসি, বাবা-মায়ের সম্মান রাখতে তোমাকে বিয়ে করেছি।আমাকে ধোঁকাবাজ ভেবো না, সম্পর্কের কথা বলার সুযোগ ছিল না।তার আগেই বিয়ের সব কথা পাকা করেছে।ভেবেছি হয়তো মেনে নিতে পারবো কিন্তু সত্যি বলছি, তোমাকে ভালবাসতেই পারবো না।আমার হৃদয় জুরে রুপার বিচরণ। মিষ্টি__আমি জানি, ভালোবাসায় জোর খাটে না।কোন মেয়ে বৈবাহিক জীবনে যদি স্বামীর ভালবাসা না পায় তাহলে পৃথিবীর সব ঐশ্বর্য এনে দিলেও সে সুখি হবে না।স্বার্থপরের মত শুধু নিজের কথাই ভেবেছো, একবারও আমার কথা ভাবোনি।  সিজান__আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ?  মিষ্টি__বাবা-মা আদর করে নাম রেখেছে মিষ্টি, কত ভ্রমর মিষ্টির মধুর পিছে ছুটেছে।জীবনে তোমাকেই স্বামী ভেবেছি, পুরোপুরি তোমার হয়ে গেছি।ভাবতাম, বর্ষায় ছাতা যত বড়ই হোক তাতে ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকেই আর প্রেম যত গভীর হোক তাতে প্রতারণ...

নীল ফাইল ও একটি মিসটেক

Image
আজ বড্ড দেরি হয়ে গেছে। তাই তাড়াতাড়ি অফিসে ঢুকে একটু জোরেই হাটা দিলাম। কিন্তু কেন জানিনা মনে হল আশেপাশের মানুষগুলো আমার দিকে অদ্ভুত এক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। বিষয়টা সত্যি কিনা দেখার জন্য সবার দিকে নজর দিলাম। হুমম সবাই আমার দিকে কেমন দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে আর মুচকি হাসছে। ব্যাপারটা অসহ্যকর। অনেক মানুষ যদি আপনার দিকে তাকিয়ে এভাবে হাসে কেমন অসহ্য লাগা ভর করবেই। ভাবতে ভাবতে ডেক্সের সামনে আসলাম। কাধ থেকে ল্যাপটপের ব্যাগটি টেবিলের উপর রাখতেই শফিক সাহেব এসে হাজির। ওনার দিকে প্রথমে না তাকিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। কিন্তু ওনার মুখ থেকে বের হওয়া কথাটি শুনে বিরক্তি নিয়ে তাকালাম। উনিও বাকিদের মত হাসছে তবে একটু বেশিই হাসছে মনে হচ্ছে।  - আপনি এভাবে হাসছেন কেনো? (আমি) - আবির সাহেব, আপনি এমন একটা কাজ করবেন ভাবতে পারিনি। ভাবা যায়...সারা অফিসের লোক তাকে মেনে চলে ভয়ে চলে আর আপনি তাকেই কিনা? সত্যিই সাহসের পরিচয় দিলেন একটা। অসাধারন আপনার সাহস। শফিক হলেন আমার কলিগ। একটু বেশি বকে। বেশি বকে বলতে অন্যের কোনো অসাবধানতা বা ভূল কিছু দেখলেই হয়। তার মুখ থেকে কথা আর ফুরাবে না। ওনার মুখ থেকে আমার প্রতি আলগা প্র...

সখি, ভালবাসা কারে কয়?

Image
সখি, ভালবাসা কারে কয়? লেখক — শাওন ইসলাম সেতু অবস্থা সঙ্গিন এবং ভয়াবহ। একটি চেয়ারের সাথে আমাকে কঠিনভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। হাত এবং পায়ের রক্ত চলাচল সম্ভাবত এতক্ষণে বন্ধ হয়ে গেছে। নাকটা চুলকাচ্ছে ক্রমাগত। মনে হচ্ছে কেউ নাকটা চুলকে দিলে তাকে অর্ধেক পৃথিবী দিয়ে দিতাম। আমার পাশে দৈত্য আকৃতির দুই যুবক। তাদের হাতে মোটা লাঠি। তারা লাঠি হাতে ক্রমাগত আমার চারপাশে ঘুরছে। এদের দেখে একটা গান মনে পড়ে গেল, “বিন্দু আমি তুমি আমায় ঘিরে......।”  এমন সময় বাড়ীর কর্তা জাহাঙ্গীর আকন্দ ঢুকলেন। তিনি বিশেষ কৌশলে আমার চুলের কলি ধরে টান দিলেন। দাঁত মুখ খিঁচিয়ে বললেন, “বল, আমার মেয়ের সাথে তোর কি সম্পর্ক?” আমি ব্যথায় কুঁকড়ে গিয়ে কিছু বলতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু মুখ দিয়ে শুধু ফ্যাসফ্যাস শব্দ হল। আমার চারপাশে ঘুরতে থাকা বলশালী যুবকের একজন বলল, “এই বদমাইশকে এত প্রশ্ন করার কিছু নেই। ওর সাহস দেখে আমি অবাক হই। আমাদের বাড়িতে চুরি করে ঢুকে আমার বোনের সাথে দেখা করার চেষ্টা করে! ও আমাদের চেনে না। ঘুঘু দেখেছ এবার ঘুঘুর ফাঁদ ও দেখবা।” জাহাঙ্গীর আকন্দ মুখ সূচালো করে বলল, “ এরে কি শাস্তি দেয়া যায়?” : বাবা, দুই ঘণ্টা...

ভালবাসা আজও জিবন্ত আছে

Image
গল্পঃ ভালবাসা আজও জিবন্ত লিখাঃ Fahim Al Mamun অফিসের বসকে ফাইলগুলো জমা দিয়ে নিজের ডেস্ক এ আসলাম। আমি জুলফিকার আহমেদ। পড়াশুনা শেষ করে ৩ মাস হল একটা কন্সট্রাকশন কম্পানিতে জয়েন করেছি। দেশের বাইরে থেকে BSC করেছি সিভিল ইন্জিনিয়ারিং নিয়ে। তাই দেশে এসে জব পেতে বেশি কষ্ট করতে হয়নি। অফিসের বস আমার কাজকে বেশি প্রাধান্য দেন বলে তার সাথে সম্পর্কটাও অনেক ভাল। তাছাড়া তিনি অনেক ভাল মানুষও বটে। কিছুদিন আগেই একটা বড় কাজ আমাদের হাতে আসে। অনেক সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করে ক্লাইন্টকে বুঝিয়ে কাজটি হাতে পেয়েছি। সেই কাজেরই সব ফাইল আজকে জমা দিয়ে আসলাম। তাই এখন একটু হালকা লাগছে। বস আজ অনেক খুশি। তাই ভাবলাম বসের কাছ থেকে ছুটি নিয়ে একটু নদীর ধারে ঘুরতে যাব। বসের কেবিনে আসলাম কিন্তু বস ছুটি দিলনা। বলল আজকে নাকি উনার বাসায় ডিনার করতে হবে। আমিও ব্যাচেলর বলে আর না করতে পারিনি। সন্ধার পর উনার গাড়িতেই আমরা বাসায় আসলাম। বসের বাড়িটি অনেক সুন্দর। উনার বাসায় ফ্রেশ হয়ে ড্রয়িং রুম এ অপেক্ষা করছি। কিছুক্ষন পর বস আসলেন এবং উনার স্ত্রীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন। কিছুক্ষন পরে ডিনারের সময় হয়ে গেল। খাওয়ার সময় বুঝলাম  বস...

ভালোবাসার মানুষকে সুখি করে

Image
সফিক সাহেব যখন আমার ডেস্কে এসে বললেন; --- আদনান ভাই বস আপনাকে একটু তার রুমে যেতে বলেছে। আমি তখন  তার দিকে তাকিয়ে বললাম; --- ও আচ্ছা ঠিক আছে যাচ্ছি।  আমি তখন ফাইলটা ক্লোস করে বসের রুমের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম। বসের রুমের সামনে গিয়ে বসলাম; ---আসবো স্যার,  স্যার তখন  আমার দিকে তাকিয়ে বললেন;  --- হ্যা অবশ্যই।  আমি মুচকি হাসি দিয়ে রুমে ঢুকলাম। স্যার তখন  আমাকে বসতে বললেন। তার পর জিজ্ঞেস করলেন; --- তা মিস্টার আদনান কি খবর আপনার?  আমি একটু হাসি দিয়ে বললাম; --- এই তো স্যার ভালো।  স্যার তখন বললেন; --- আচ্ছা আপনাকে যে জন্য ডেকেছি, কাল দশটার সময় আপনাকে ঢাকার বাইরে যেতে হবে।  আমাদের একটা অফিসিয়াল প্রোগরাম এর জন্য।  আমি তখন বললাম; --- স্যার প্রোগরামটা কি শুধু কালকের জন্য।  ---না মিস্টার আদনান, প্রোগরামটা তিনদিনের।  কথাটা শুনে আমার মুখটা ভার হয়ে গেল, কারণ তিনটা দিন তিথিকে ছাড়া থাকতে হবে।  আমাদের বিয়ের পর থেকে কোন দিন কোথাও তিথিকে ছাড়া  থাকিনি।আর তিনটা দিন তিথিকে ছাড়া থাকতে হবে ভাবতেই আমার কেমন জানি কষ্ট হচ্ছিল। তখন আম...