আমি প্রতারনার শিকার মাত্র

- প্রতিদিন আমার আর এ ঘ্যানঘ্যান ভালো লাগছেনা লুবানা এবার আমায় মুক্তি দাও অফিস থেকে আসলে তোমার একটা না একটা সমস্যা আছে।
কথা গুলো বলে আসিফ বিরক্ত হয়ে আবার মোবাইল টিপতে থাকে।
লুবানা আসিফের কথা শুনে হতভম্ব  হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। 

ইদানিং আসিফ কেমন যেনো হয়ে গেছে সব সময় মেজাজ নিয়ে থাকে,যেটা ওর স্বভাবের বিপরীত লুবানা আগের আসিফের সাথে এখন আসিফের মিল খুঁজে পাইনা।সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে।

- আমার কথা তোমার কাছে ঘ্যানঘ্যান মনে হয়? কই আগেতো কখনো মনে হতোনা সব সময় বলতে লুবানা তুমি কথা কম বললে আমার ভালো লাগেনা এখন তোমার কাছে আমাকে বিরক্ত লাগে।
লুবানা কান্না ভেঙে পড়ে 

আসিফ আবারও বিরক্ত হয়ে বলে
- তোমার এ ন্যাকা কান্না দেখলে আমার আরও বেশি বিরক্ত লাগে তুমি কি সেটা জানো?

আসিফের কথা শুনে লুবানা শব্দ করে  কেঁদে উঠে

ওদের চেঁচামেঁচি শুনে আসিফের মা এসে বলে

- তোরা কি মানুষ কি শুরু করছিস প্রতিদিন তোদের যে একটা মেয়ে আছে সেটা ভুলে গেছিস? ও কি ভাবছে তোদের সম্পর্কে। 

লুবানা শাশুড়ীর কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে বলে

- মা আমি কি এমন বলছি আমি শুধু ওকে বললাম আমার অনেক কাজ পড়ে আছে তুমি একটু মেয়েটাকে নিয়ে পড়াতে বসাওনা। কিছুতো করছোনা মোবাইল টিপতেছো ও বলল আমি নাকি ঘ্যানঘ্যান করি। কি এমন কাজ ওর মোবাইলে আজ কাল ওতো মোবাইল ছাড়া কিছুই বুঝেনা।

 লুবানার কথা শুনে আসিফের মাথা গরম হয়ে যায় ও ওঠে লুবানাকে থাপ্পড় মারতে গেলে আসিফের মা ওর হাত ধরে ওকে একটা থাপ্পড় মেরে দেয়।

- তোকে আমি এ শিক্ষা দিয়েছি বউয়ের গায়ে হাত তুলিস?ও তো ঠিকেই বলছে ইদানিং মোবাইল তো হাত ছাড়া করিসনা কি এমন করিস মোবাইলে?
ভালো করে শুনে রাখ কাল থেকে যেনো আমি আর কিছু না শুনি।

কথা গুলো বলে ওনি লুবানাকে নিয়ে বেরিয়ে যায় ওনারা চলে গেলে আসিফ ফুঁপিয়ে ওঠে 
,,আমি তোমাকে মুক্ত করে দিবো লুবানা তখন খুব ভালো থেকো।

______

আসিফের আর লুবানার বিয়েটা পারিবারিক ভাবে হয়।বিয়ে আগেও দু'বার ওরা দেখা করে বিয়ের পর আসিফের ভালোবাসা পেয়ে লুবানা নিজেকে সবাই চাইতে সুখি ভাবতো।দু'জনে কতো জায়গা ঘুরছে প্রতি সাপ্তাহ ছুটির দিনে সবাই মিলে ঘুরতে যেতো। তারপর ওদের ফুটফুটে একটা মেয়ে হয়। তখনো সব স্বাভাবিক ছিল এ ৫,৬মাস কেমন যেনো হয়ে গেছে আসিফ সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে।আগের মত অফিসে গেলে এখন আর কল করেনা যতক্ষণে লুবানা কল করে ততক্ষণে কথা বলে।
কিচেনে এসে লুবানা ওদের আগের দুষ্ট মিষ্টি  স্মৃতি গুলো ভাবতে থাকে এখন সেগুলো অতীত। ও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাজে মন দেয়।

______________

রাত প্রায় ২.০০টা বাজে 
আসিফ ঘুমন্ত মেয়েকে আদর করে লুবানার কপালে চুমু দিয়ে বেরিয়ে পড়ে। লুবানার জন্য একটা চিঠি লিখে গ্লাস দিয়ে চাপা দিয়ে রেখে যায়।

৬.৭ মাস আগে একদিন একটা মেয়ে  ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় ও একসেপ্ট করে। মাঝে মাঝে মেয়েটা ট্রেক্স করতো আসিফও খুব ইনজয় করে।
মেয়েটা খুব সুন্দর করে কথা বলে সারাক্ষণ শুনতে ইচ্ছে করতো। তারপর ওরা মোবাইলেও কথা বলা শুরু করে মেয়েটা আসিফকে নিজের বশে করে নেয়।আসিফ মেয়েটার সাথে কথা  বলতে না পারলে অস্থির হয়ে যেতো।

যেদিন ওরা প্রথম দেখা করে সেদিন মেয়েটা আবদার করে ওকে যেনো হিরার নেকলেস দেয়।
আসিফ ও মেয়েটার কথায় গলে যায় প্রায় ২লক্ষ টাকার একটা নেকলেস দেয়।মেয়েটাও ওকে পেয়ে বসে যখন তখন দামী দামী জিনিস আবদার করে। 
এরকম করতে করতে  একদিন আসিফ ব্যাংক থেকে টাকা হিসেব করে বের হতে মেয়েটার সাথে দেখা হয়ে যায়। মেয়েটা ওকে ভুলিয়ে বালিয়ে ওর ফ্ল্যাটে নিয়ে যায় তারপর ওকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ও বেহুশ হওয়ার আগে ওর কাছ থেকে চেক গুলোতে সিগনেচার করিয়ে নেয়।যখন আসিফের জ্ঞান ফিরে তখন দেখে মেয়েটা ফ্ল্যাটে কোথাও নেই সব কিছু নিয়ে পালিয়ে গেছে।

আসিফের অবস্থা পাগলের ন্যায় হয়ে যায় ও কি করবে কাকে বলবে দিশেহারা হয়ে পড়ে। বাড়িতে আসলে শান্তি লাগেনা অফিসে গেলেও শান্তি পেতোনা। তাই সব সময় মেজাজ খিড়খিড়ে  থাকে।
ও অনেকের সাথে যোগাযোগ করে মেয়েটার সন্ধান কেউ দিতে পারেনি। ফেসবুকেও অনেক জায়গা সার্চ দিয়ে খুঁজেছে কোথাও মেয়েটার খোঁজ পাইনি।যেনো হাওয়াই মিলিয়ে গেছে।

_______________________

সকালে লুবানা ঘুম থেকে উঠে দেখে আসিফ কোথাও নেই তারপর ওর নজরে পড়ে চিঠিটার উপর।
চিঠি পড়ে লুবানা হাউমাউ করে কান্না করতে থাকে ওর কান্না শুনে শাশুড়ী দৌড়ে আসে।
-কি হইছে মা তুমি কান্না করছো কেনো
লুবানা চিঠিটা শাশুড়ীর হাতে তুলে দেয় শাশুড়ী কিছু বুঝতে না পেরে চিঠিটা খুলে পড়েতে শুরু করে

প্রিয় বউ
আমি যে অন্যায় করছি সেটার ক্ষমা হয়না,মেয়েটার সাথে কেমন করে যেনো সম্পর্ক হয়ে যায়।একটা মোহ মাঝে ছিলাম তাইতো ঠিক ভুল বুঝতে পারি নাই। ও আমাকে সর্বসান্ত করে দিছে আমার সব কিছু নিয়ে পালিয়ে গেছে। তোমাকে কথা গুলো বলার সাহস আমার ছিলোনা।মেয়ের সামনে গেলে নিজেকে পাপী মনে হয় তাইতো আজ কাল মেয়ের কাছেও যাইনা। আমি আর পারছিলাম না তাইতো আজকে পালিয়ে আসলাম আমি একটা কাপুরুষ। মাকে নিয়ে ভালো থেকো কখনো মাকে কষ্ট দিওনা  আমার মা আমার থেকে তোমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে।আমার লাশটা যদি পাও শেষ দেখাটা একবার দেখে নিও,,
ইতি
 তোমার প্রতারক স্বামী 

_________________সমাপ্ত________________

,,অনুগল্প
,,প্রতারনার শিকার
,,জিনাত আফরোজ

Comments

Popular posts from this blog

সখি, ভালবাসা কারে কয়?

বিয়ের দুই মাস পরের রাত

সুন্দর করে বাঁচতে চাই আমি