ভালোবাসার মানুষকে সুখি করে

সফিক সাহেব যখন আমার ডেস্কে এসে বললেন;
--- আদনান ভাই বস আপনাকে একটু তার রুমে যেতে বলেছে।
আমি তখন  তার দিকে তাকিয়ে বললাম;
--- ও আচ্ছা ঠিক আছে যাচ্ছি। 
আমি তখন ফাইলটা ক্লোস করে বসের রুমের উদ্দেশ্য রওনা দিলাম।
বসের রুমের সামনে গিয়ে বসলাম;
---আসবো স্যার, 
স্যার তখন  আমার দিকে তাকিয়ে বললেন;
 --- হ্যা অবশ্যই। 
আমি মুচকি হাসি দিয়ে রুমে ঢুকলাম। স্যার তখন  আমাকে বসতে বললেন।
তার পর জিজ্ঞেস করলেন;
--- তা মিস্টার আদনান কি খবর আপনার? 
আমি একটু হাসি দিয়ে বললাম;
--- এই তো স্যার ভালো। 
স্যার তখন বললেন;
--- আচ্ছা আপনাকে যে জন্য ডেকেছি, কাল দশটার সময় আপনাকে ঢাকার বাইরে যেতে হবে।
 আমাদের একটা অফিসিয়াল প্রোগরাম এর জন্য।
 আমি তখন বললাম;
--- স্যার প্রোগরামটা কি শুধু কালকের জন্য। 
---না মিস্টার আদনান, প্রোগরামটা তিনদিনের।
 কথাটা শুনে আমার মুখটা ভার হয়ে গেল, কারণ তিনটা দিন তিথিকে ছাড়া থাকতে হবে। 
আমাদের বিয়ের পর থেকে কোন দিন কোথাও তিথিকে ছাড়া  থাকিনি।আর তিনটা দিন তিথিকে ছাড়া থাকতে হবে ভাবতেই আমার কেমন জানি কষ্ট হচ্ছিল। তখন আমি বললাম;
 --- স্যার আমি না গেলে হয় না।
স্যার বললেন;
--- না মিস্টার আদনান আপনাকে যেতে হবে।
 আর হ্যাঁ আপনি আপনার মিসেসকেও আপনার সাথে নিতে পারেন, কারণ এটা একটা ফ্যামিলি প্রোগরাম। 
এই কথাটা শোনার পর আমার কতটা আনন্দ হচ্ছিল তা আমি বলে বুঝাতে পারবো না।
 তখন স্যার বললেন; 
--- আচ্ছা আপনি কেমন রুম চান আপনার  জন্য কেমন রুম বুকিং করবো।
আমি তখন মুচকি একটা হাসি দিয়ে বললাম;
 --- স্যার বলবো আমার জন্য কেমন রুম বুকিং করবেন ।
--- হ্যাঁ অবশ্যই বলেন। 
আমি তখন বললাম; 
--- যে রুম থেকে চাঁদটা দেখা যাবে। 
রুমের সাথে ছোট্ট একটা বারান্দা থাকবে।
একটা টেবিল আর সাথে দুটো চেয়ার। একটা চেয়ার থাকলেও হবে, আর এমন একটা রুম হলেই হবে।
তখন স্যার একটু  হাসি দিয়ে বললেন;
--- বাহ আদনান সাহেব আপনি তো দেখছি খুব রোমান্টিক মানুষ।
   আচ্ছা ঠিক আছে আপনার জন্য এমন একটা রুমই বুক করা হবে।
আমিও তখন  প্রতিউত্তরে শুধু একটু হাসি দিয়ে 
  বসের রুম থেকে চলে আসলাম। তার পর বাকি কাজ গুলো সেরে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরলাম। 
বাসায় এসে কলিং বেল চাপতেই তিথি দরজাটা খুলে দিলো। 
আমাকে দেখে একটু অবাক হয়ে বললো;
 ---কি ব্যাপার আজ এতো তাড়াতাড়ি ফিরলা যে।
আমি তখন বললাম;
--- আজ কাজের চাপটা কম ছিলো তাই তাড়াতাড়িই ফিরলাম। 
ও তখন আমার হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে বললো;
--- আচ্ছা ঠিক আছে তুমি তাহলে  গিয়ে ফ্রেস হয়ে নাও আমি তোমার জন্য শরবত করে আনছি। 
আমি গিয়ে ফ্রেস হয়ে রুমে এসে দেখি ও শরবত নিয়ে দাড়িয়ে আছে।
 আমার কাছে এসে বললো;
 --- এইযে মিস্টার বর আপনার শরবত।
 আমি তখন শরবতটা টেবিলের উপর  রেখে ওর হাতটা ধরে বললাম;
 --- শরবতটা পরেও খাওয়া যাবে,  তার আগে আমার মিষ্টি বউটাকে একটু আদর করে নেই।  
 ও তখন মুখটা একটু বাঁকিয়ে বলল;
--- তাই না, হইছে আপাকে এখন আর আদর দেখাতে হবে না।
 কিচেনে অনেক কাজ আছে আমি গেলাম।
 এই বলে ও চলে গেলো।  
কি অদ্ভুত একটা মেয়ে যখন একটু রোমান্টিক মুডে আসবো তখনই উনার কাজ বেরে যায়। অন্য সময় হলে তো বলবে, যে তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসোনা সবসময় কাজ নিয়ে পড়ে থাকো।
যাই হোক, এর পর রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে রুমে এসে ওকে বললাম; 
--- বলছি কাল আমাকে ঢাকার বাইরে যেতে হবে অফিসিয়াল প্রোগামের জন্য।
তিনদিন থাকতে হবে ওখানে।
 ও তখন আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাসি দিয়ে বললো;
 --- জামাকাপড় গুছিয়ে দিবো আমি।
ওর কথাটা শুনে আমার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল, কোই ভাবলাম কথাটা শুনে ওর মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যাবে, তা না উনি হাসি দিয়ে বলছে জামাকাপড় গুছিয়ে দিব, 
 আমি তখন একটু ভাব নিয়ে বললাম;
--- না থাক আমার জামাকাপড় আমিই গোছাতে পারি।
 বরং তুমি বলো তোমার কোন কোন জামাকাপড় আমি আমার ব্যাগে ঢুকাবো।
ও তখন  একটু অবাক হয়ে বললো;
---কেন?
আমি তখন বললাম;
--- অফিস থেকে বলছে তোমাকে সাথে নিয়ে যেতে  কারণ এটা একটা ফ্যামিলি প্রোগরাম। 
ও তখন আবার একটু হেসে বললো;
--- তার পর;
--- তার পর আর কি অফিস থেকে জিজ্ঞেস করল আমি কোন রুমে থাকবো।
ও তখন মুখে হাত রেখে  বললো;
--- তা তুমি কি বললে?
 --- আমি বললাম যে, যে রুম থেকে চাঁদ দেখা যাবে।
 রুমের সাথে একটা ছোট্ট বারান্দা থাকবে।
 বারান্দায় একটা টেবিল থাকবে আর তার সাথে দুটো চেয়ার।
 একটা চেয়ার থাকলেও হবে কারণ  আমি আমার বউকে কোলে নিতে পারবো। সো ওরকম একটা রুম আমাদের  জন্য বুক করে দিয়েছে।
এখন কি আর করার যেতেতো হবে তাই না। ঝটপট বলো তুমি কোন কোন ড্রেস নিবা, আর শুনো সুন্দর করে সাজাতে হবে কিন্তু। 
জলদি সকাল বেলা উঠে শপিং এ যাবো তুমি কি কিনবা আমিতা জানি না।
 কিন্তু আমার কি কি কিনতে হবে সেটা তুমি চুস করে দিবা।
 কারণ  আমি চাই তোমার ড্রেসএর সাথে ম্যাচিং করে করে পড়বো।
 আর শুনো কিছু কাঁপুল টিসার্ট কিনতে হবে ।
ওই যে কিং কুইন কি না কি হাবিজাবি, ইয়াংজেনারেশন পড়ে হ্যাঁ ওইগুলা কিনতে হবে বুঝছো।
 আমার পিছে লেখা থাকবে মিস্টার পারফেক্ট তোমার পিছে লেখা থাকবে মিসেস পারফেক্ট। 
ট্রাস্ট মি ওর নট এতোটা হ্যাপি মানুষ হতে পারে ওকে না দেখলে আমি তখন  জানতামই না । 
 ও তখন এসে  আমাকে  জড়িয়ে ধরে  বললো;
---কি দরকার ছিল এগুলোর
আমি তখন হাত দুটো ওর কাঁধের উপর রেখে বললাম;
--- এগুলো তো সামান্য তোমার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমি সব করতে পারি।
 --- অনেক ভাগ্য করে তোমাকে আমার স্বামী হিসেবে পেয়েছি। খুব ভালোবাসি তোমাকে,
  কথাটা বলেই কান্না করে দিলো।
আমি তখন ওর চোখের জল মুছে দিয়ে বললাম; 
 --- এই পাগলী কান্না করতেছো কেন আমিও তো অনেক ভাগ্য করে তোমার মতো একটা মিষ্টি বউ পেয়েছি। 
খুব বেশি ভালোবাসি তোমাকে। 
সারাটা জীবন তোমার এই হাতটা ধরে থাকবো। জীবনে আসা ছোট ছোট মূহুর্ত গুলো তোমায় আমি উপহার দিব।
 তোমার ভালোবাসার অধিকার থেকে তোমাকে কখনো বঞ্চিত করবো না।
 সারাটা জীবন তোমাকে ভালোবেসে যাবো, কথা দিলাম।

পরিশেষে: ভালোবাসার মানুষকে সুখি করার জন্য বা তার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন হয় না। জীবনে আসা ছোট ছোট মূহুর্ত গুলো দিয়েই ভালোবাসার মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায়।

সমাপ্ত। 

বিদ্র: লেখায় ভুল ত্রুটি থাকলে ক্ষমা সুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন। 

লেখা:রাজিব আহমেদ।

Comments

Popular posts from this blog

সখি, ভালবাসা কারে কয়?

বিয়ের দুই মাস পরের রাত

সুন্দর করে বাঁচতে চাই আমি