নীল ফাইল ও একটি মিসটেক
আজ বড্ড দেরি হয়ে গেছে। তাই তাড়াতাড়ি অফিসে ঢুকে একটু জোরেই হাটা দিলাম। কিন্তু কেন জানিনা মনে হল আশেপাশের মানুষগুলো আমার দিকে অদ্ভুত এক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। বিষয়টা সত্যি কিনা দেখার জন্য সবার দিকে নজর দিলাম। হুমম সবাই আমার দিকে কেমন দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে আর মুচকি হাসছে। ব্যাপারটা অসহ্যকর। অনেক মানুষ যদি আপনার দিকে তাকিয়ে এভাবে হাসে কেমন অসহ্য লাগা ভর করবেই।
ভাবতে ভাবতে ডেক্সের সামনে আসলাম। কাধ থেকে ল্যাপটপের ব্যাগটি টেবিলের উপর রাখতেই শফিক সাহেব এসে হাজির। ওনার দিকে প্রথমে না তাকিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। কিন্তু ওনার মুখ থেকে বের হওয়া কথাটি শুনে বিরক্তি নিয়ে তাকালাম। উনিও বাকিদের মত হাসছে তবে একটু বেশিই হাসছে মনে হচ্ছে।
- আপনি এভাবে হাসছেন কেনো? (আমি)
- আবির সাহেব, আপনি এমন একটা কাজ করবেন ভাবতে পারিনি। ভাবা যায়...সারা অফিসের লোক তাকে মেনে চলে ভয়ে চলে আর আপনি তাকেই কিনা? সত্যিই সাহসের পরিচয় দিলেন একটা। অসাধারন আপনার সাহস।
শফিক হলেন আমার কলিগ। একটু বেশি বকে। বেশি বকে বলতে অন্যের কোনো অসাবধানতা বা ভূল কিছু দেখলেই হয়। তার মুখ থেকে কথা আর ফুরাবে না। ওনার মুখ থেকে আমার প্রতি আলগা প্রশংসা শুনে রাগ উঠে গেল। কিন্তু কিছুই বললাম না। উপোরন্ত উনিই আবার বলা শুরু করলেন..
- তা মিয়া..আমাকে তো একবার জানাতে পারতেন। আমি কি আপনার পর নাকি? আমি তো হেল্পই করতাম।
- কি সব বলছেন বুঝতে পারছি না।
- বাহ ভনিতা তো দেখি কম পারেন না।
আমি শফিক সাহেবে কথা শুনে হাবার মত চেয়ে আছি। ওনার কথার কোনো আগা মাথা বুঝতে পারছি না। হঠাৎ কি হল সবাই কেমন করে তাকাচ্ছে। আবার উনি এসে কিসব বলছে কিছুই ঠিক বুঝতে পারছি না।
- এই যান তো আপনার কাজ করেন। আমার অনেক কাজ আছে সব করতে হবে। (আমি)
- হুমম। তবে আপনার কাজ না করলেও হবে মি. আবির। আপনি তো বস হয়ে যাবেন ক দিন পর।
বিরক্তি মুখে চেয়ারে এসে বসলাম। এনার রহস্যময়ী কথাগুলো আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। ল্যাপটপ অন করে কাজে মন দিলাম। খানিকটা সময় পর খেয়াল করলাম আমান ডেক্সের পাশে এক একজন কলিগ আসতে লাগল। আমি দাঁড়ালাম হঠাৎ এমন আগমনে। আর দাঁড়াতেই সবাই এসে হাতে হাত মিলিয়ে বলতে লাগল.. "কংগ্রেচুলেশন মি. আবির। দোয়া করি আপনারা সুখি হোন"। সবার থেকে এমন কথা শুনে আমি হা হয়ে গেলাম। কি হল কিছুই বুঝলাম না। তবে এটা শফিক এর কাজ বেশ বুঝতে পারছি। কিন্তু তিনি এমন কেনো করবে? কিছুই মাথায় আসছে না। আমি চেয়ারে বসে আবার কাজ করতে লাগলাম। তখনি শুনলাম..
- ভালো করে কাজে মন দেন আবির সাহেব।
কথাটি শুনে সামনের দিকে তাকাতেই আমার গলা শুকিয়ে গেছে। কারন কাজ করলেও কাজে যে মন নেই সেটা অন্য কেউ বুঝতে পারলে তা ভয়ের কারন। আর যদি তা হয় অফিসের বস। ঝট করে দাঁড়িয়ে বললাম..
- সরি ম্যাম.. আসলে হয়েছে কি।
- হুমম জানি। কাজে মন দেন। আর যে কাজটা করেছেন সেটা ঠিক না। আপনি আব্বুর খুব পছন্দের একজন স্টাফ তাই কিছু বললাম না। বুঝেছেন? আর নীল ফাইলের যে কাজটা দিয়ে ছিলাম নতুন প্রজেক্ট নিয়ে সেটা কতদুর করেছেন?
- জ্বি ম্যাম সেটার কাজ শেষ কিন্তু ভূলে বাসায় রেখে আসছি কাল নিয়ে আসবো।
- গুড..
অরনি ম্যাম চলে গেল আমার ডেক্সের সামনে থেকে। উনি হলেন অফিসের বস। মাস পাঁচেক হল জয়েন করেছে ওনার আব্বুর জায়গাতে। তাই আরকি। তবে উনি কি সব বলে গেলেন? মাথায় আসছে না। কিন্তু উনি যখন কথা বলছিলেন তখন আশে পাশের সবার দিকে তাকিয়ে ছিলাম একবার। আর সবাই এ দিকেই তাকিয়ে ছিল। কিন্তু ঘটনাটা কি মাথায় আসছে না আমার।
কাজ শেষ করে তাড়াতাড়ি বের হলাম অফিস থেকে। অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। তখনি শফিক এসে বললো..
- ম্যাম আজ কি বললো আপনাকে?
- ঐ মিয়া,,আপনারা কি শুরু করেছেন বলেন তো? কি হয়েছে বুঝতে পারছি না।
- আবারো ভনিতা করছেন? সব করলেন আপনি আর আমরা বলেছি বলেই দোষ? হুরর যান বাসায় যান আপনার সাথে কোনো কথা নেই।
শফিক রাগ করে চলে গেল। কিন্তু আমি কিছুই বুঝলাম না ঘটনাটা কি? যদি জানতে পারতাম তাহলে তো ঠিকই ছিল। এসব ভাবতে ভাবতে রিকশাতে করে বাড়িতে চলে আসলাম। বাড়িতে এসে সবকিছু করে খেয়ে দেয়ে অফিসের কাজে বসলাম। তখনি রাফিন এসে বললো...
- ভাইয়া আমার চিঠিটা দাও?
- চিঠি? কিসের চিঠি?
- আরে আমি না তোমাকে বলেছিলাম একটা মেয়েকে পছন্দ করি তাকে একটা চিঠি লিখে মনের কথাগুলো জানাবো। তো আমি লিখতে পারি না তাই তো তোমার কাছে দিয়েছিলাম লেখার জন্য সেটা দাও।
রাফিন হল আমার চাচাতো ভাই। বয়সে আমার থেকে মাত্র তিন বছরের ছোট থাকাই একসাথে কত ঘুরেছি বলে আমার কাছে সব জড়তা রাখে না। সবকিছু এসে বলে। তাই তার কাছের মানুষটার জন্য একটি চিঠি লিখে দেবার কথা ছিল। আমি বললাম...
- ও হা মনে পড়েছে।
- তা লেখা শেষ?
- হুমম লেখা শেষ। দাঁড়া দিচ্ছি।
সারা বাড়ি খুজে আমি শেষ। কিন্তু কোনো চিঠিই খুজে পাচ্ছি না। সেটা ঠিক চিঠি না একটি সাদা কাগজে প্রপোজাল লেখা। কিন্তু সেটা যে কোথায়? গত তিনদিন আগেই তো টেবিলে রেখেছিলাম রাতে লিখে। কিন্তু সেটা কোথায় গেল? আমি ওর দিকে করুন দৃষ্টিতে চেয়ে আছি। সে বললো..
- কই দাও।
- সরি ভাই। আসলে লিখে রেখেছিলাম কিন্তু ঠিক খুজে পাচ্ছি না। কিছু মনে করিস না। কাল লিখে দেবো এখন যা।
রাফিন রাগ করে চলে গেল। আমি তখনও খুজে চলেছি কিন্তু পাচ্ছি না। পরে বিরক্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
.
সকালে উঠে নীল ফাইলটা খুজতে লাগলাম। কিন্তু সেটাও খুজে পাচ্ছি না। বাপারটা কি ভাবতেই মনে পড়ল। আমি তো দুইদিন আগেই নীল ফাইল অফিসে নিয়ে গিয়েছিলাম। তার মানে সেটা ওখানে আছে। যাক আজ ম্যামকে দিতে পারবো কাজের হিসাব।
এসব ভাবতে ভাবতে অফিসে চলে এসেছি। আজ তেমন কেউ কৌতুহলি হয়ে তাকাচ্ছে না। কিন্তু যখন শফিকের ডেক্সের সামনে আসলাম সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে অন্যদিনের চেয়ে বেশি রসালো দৃষ্টিতে। আমি সোজা আমার ডেস্কের সামনে গেলাম। কাথ থেকে ব্যাগ নামিয়ে বসে কাজে মন দিলাম। প্রায় ঘন্টা দুয়েক পর শফিক আসলো..
- কি আবির সাহেব কেমন আছেন?
- প্রতিদিন যেমন থাকি। আপনি?
- হুমম আছি। কাজটা ঠিক করেনি। আমাকে জানালে কি ক্ষতি হতো?
- আজকেও একিই কথা?
- ওকে ওকে। ম্যাম ডাকছে তার কেবিনে সাথে স্যারও আজ আসছেন নীল ফাইল নিয়ে যেতে বলেছেন আপনাকে যান।
শফিকের থেকে কথাগুলো শুনে নীল ফাইল খুজতে লাগলাম ড্রয়ারে। কিন্তু নাহ নেই কোথাও। মাথাটা রাগে ফেটে যাচ্ছে। আমার চাকরিটা মনে হয় গেল আজ। আমার দিব্যি মনে আছে আমি অফিসে ফাইলটি এনেছিলাম। কিন্তু খুজে পাচ্ছি না। চাকরিটা আমার গেল আজ। সব গুছিয়ে নিলাম চলে যাবো বলে একেবারে। তারপর ম্যামের কেবিনের দিকে গেলাম করুন মুখে। দরজা ঠেলে মাথা নিচু করে বললাম...
- আসবো ম্যাম..?
- হুমম আসেন আবির সাহেব। বসেন।
- ধন্যবাদ।
চেয়ারে বসেছি সেই মাথাটা নিচু করেই। অরনি ম্যাম এর আব্বুও আসছে আজ। তবে ওনার দিকে তাকাতে সাহস হচ্ছে না। কারন আজ প্রথমবার বড় কাজে ভূল করে বসেছি।
- চুপ কেন মি. আবির সাহেব? এনিথিং রঙ?
- নাহ মানে ম্যাম..আসলে আমি ঐ
- আপনি ঐ কি?
- আসলে আমি নীল ফাইলটা হা....
- কোন নীল ফাইল?
- আপনি যে ফাইলে কাজ করতে দিয়েছিলেন নতুন প্রজেক্ট নিয়ে সেটা।
- ওহ তা কোথায় সাথে তো দেখছি না।
- না মানে ম্যাম আমি ওটা হা..
- খুজে পাচ্ছেন না তাই না?
আমি ওনার কথা শুনে ওনার দিকে তাকালাম। উনি মুচকি হাসছে। সেই হাসি যা কলিগরা আমাকে দেখে হেসেছে এ কদিন। আমি হাবার মত চেয়ে আছি কারন তিনি এটা কি করে জানেন? আমি ভয়ে মাথাটা নিচু করলাম আবার।
- এই যে দেখুন এটাই কি সেই নীল ফাইল?
আমি কথাটা শুনে তাকালাম সামনের দিকে। কিন্তু উনি হাত বাড়িয়ে দেখিয়ে দিল স্যারের হাতের দিকে। আমি অবাক চোখে তাকিয়ে আছি। স্যারও সেই রহস্যমার্কা হাসি দিল।
- আরে এটাই তো সেই নীল ফাইল। আপনারর কাছে কি করে আসলো?
স্যার আর অরনি চুপ হয়ে গেল। অরনি আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এমনিতেই তিনি সুন্দরী আর একদম সামনে বসে যদি এভাবে তাকায় তো কেমন অস্বস্থি তে পড়তে হচ্ছে। স্যার বললেন...
- আবির তুমি কাজের ফাকে এসবও করো তাহলে?
- কোনসব স্যার?
- জানোনা?
- নাহ স্যার।
- তোমার ফাইল এটা তোমার থেকে আর কে জানবে?
- সরি স্যার বুঝতে পারছি না।
- দেখো আবির, তোমাকে আমার খুব পছন্দ কিন্তু এভাবে কাজটা করা তোমার ঠিক হয়নি। আমাকে তো জানাতে পারতে বন্ধু মনে করে। আমি কি মেরে ফেলতাম? সবাইকে জানিয়ে কি লাভ হল?
স্যারের কথার আগা মাথা কিছুই বুঝলাম না। অাইলটা ম্যামের কাছে আসলো কিভাবে সেটাও বুঝলাম না। মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে সব। তখনি শফিকের গলা...
- ম্যাম আসবো?
- হুমম আসেন। আপনিই তো সব।
- নাহ মানে ম্যাম ঐ আরকি।
- তা মি. আবির সাহেব, নীল ফাইলে আজকাল প্রেমপত্র দেয়া হয়? তাও আবার অফিসের বসের। (অরনি)
আমি ওনার কথা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেলাম। বলে কি উনি? আমি কেনো ওনাকে প্রেমপত্র দিতে যাবো? মাথা কি খারাপ হচ্ছে? আমি জড়তার মধ্যে পড়ে বললাম...
- ম্যাম আপনার মনে হয় ভূল হচ্ছে।
- ভূল? এটা কি তবে? ফাইলের মধ্যে কি উড়ে এসেছে? এটাতে আমাকে প্রপোজাল লিখে ফাইলের মধ্যে কেনো দিয়েছেন শুনি?
নীল ফাইল থেকে সেই সাদ কাগজ যা রাফিনের জন্য লেখা ছিল সেইটা ম্যাম বের করল। আমি হা হয়ে চেঁয়ে আছি। আর হা হবারই কথা। কারন মনে পড়েছে এখন সব। আমি নীল ফাইলে কাজ শেষ করে রাফিনের প্রপোজাল লিখেছিলাম। আর সেটে নীল ফাইলের মাঝে রেখেছিলাম। যাতে পরে সেখান থেকে নিয়ে রাফিনকে দিয়ে দিতে পারি। কিন্তু ভূলে আর সেটা বের করা হয়নি। আর সাথে করে ফাইলটা নিয়ে অফিসে এসেছিলাম।
ফাইলটা ম্যামের কাছে জমা দেয়ার জন্য বের করে টেবিলের উপর লেখে ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম। আর তারপরেই এসে দেখি ফাইলটা নেই। খুজেছিলাম কিন্তু পাইনি। আর কাজের চাপ থাকাতে বেশি গুরুত্বি দিতে পারিনি
- কি হল চুপ কেনো? (অরনি)
- ভাবছি আপনার কাছে ফাইলটা এলো কি করে?
- সেসময় আমি ম্যাম এর কেবিন থেকে আসছিলাম। ম্যাম বলেছিল আমাকে যে আপনাকে নীল ফাইল নিয়ে কেবিনে যেতে কিন্তু আপনাকে এসে পাইনি। তবে টেবিলে আপনার ফাইলটি রাখা ছিল। ভেবেছিলাম আপনার একটা উপকার করি। আমি ফাইলটা নিয়ে যাবো আর পরে আপনাকে এসে বলবো সব। তাই ফাইলটা আমি নিয়ে এসেছিলাম ম্যামের কাছে। বাকিটা জানেনই তো সবাই। (শফিক)
আমি শফিকের দিকে হা হয়ে তাকিয়ে আছি। ভেবেছিলাম ওয়াশরুম থেকে এসে চেক করে ভুলগুলো ঠিক করে জমা দিব। কিন্তু তার আগেই এই ব্যাটা শফিক এসে সব গুলিয়ে দিল। এবার মনে হয় সত্যি সত্যি চাকরিটা গেল আমার। কারন রাফিনের সেই মেয়েটির নামও অরনি আর কাগজটিতে লেখা আছে...
"অরনি..
ভালোবাসা কখন আসে আমি ঠিক জানিনা, তবে তোমাকে দেখে ভালোবাসার যে সমতল আঁকাবাকা রেখাদ্বয় আমার মনের সরু রাস্তায় বয়ে চলে গেছে সুদুর প্রান্তরে তখনি বুঝেছিলাম আমি তোমাকে ভালোবাসি। ভালোবাসি শব্দটা হয়ত তোমার কাছে পুরোনো। কিন্তু আমি যখন চুপিসারে তোমার চাঁদবদন মুখে চেয়ে থাকি তখন মনে মায়াবীয়তা আসে। যখন তোমার ঘন সাঁদা দাতের সংমিশ্রনে তোমার লাল লিপিষ্টিক ঠোটে হাসির রেখা বয় তখন আমার মনের ভালোবাসা শব্দটি নতুনভাবে এসে কড়া নাড়ে আর বলে..ভালোবাসি অরনি তোমাকে। তোমার চুল, তোমার নাক, তোমার আখির চিকর ভ্রু আমাকে ভালোবাসি শব্দটি নতুনভাবে বুঝতে শেখায়। তখন মনে মনে একাই পাগলের মত বিড় বিড় করে বলে উঠি..
নিরক্ষরকার সেই পান্ডলিপিতে,
শুধুই অনুভুতির সমাহার..
শঙ্খচিল...ডাহুকের প্রেম''
সেটাও ছিল নিরক্ষর...!
কেউ একজন বলেছিল----
ভালোবাসায় লিখিত কোনো পান্ডলিপির প্রয়োজন নেই।
প্রয়োজন শুধু হৃদতার আর হৃদতার...।
তাই আমি অন্য কোথাও তোমার ভালোবাসা লিখে রাখিনি..
তুমি নিবে তা আমার চোখের ভাষায় অথবা আমার অনুভুতির অস্থিরতায়"
.
লেখাগুলো এরা সবাই পড়েছে। আমি শফিকের দিকে রাগি চোখে তাকালাম। সব এরই দোষ। না বলে ফাইল এনেছে তারউপর সবাইকে অন্যরকম করে বলে বেড়িয়েছে।
- অরনি বাসায় যা। শফিক তুমিও যাও ডেস্কে। (স্যার)
স্যারের কথামত সবাই চলে আমিই বসে রইলাম। কারন আমার যাওয়ার অনুমতি এখনো হয়নি। আজ শফিকের জন্যই চাকরিটা চলে গেল। ইস আগে যদি বুঝতে পারতাম ভূল করে ফেলেছি। তবে ভূলটা হল তার নামও অরনি এনার মেয়ের নামও অরনি। হে খোদা, কেনো যে প্রায় মানুষের নাম একি রকম হয়?
- তা আমার মেয়েকে কবে থেকে ভালোবাসো? (স্যার)
- ইয়ে না মানে স্যার আসলে ভুল করে কাগজটা...
- চুপ। এখন তো এসবই বলবে। ভূল করে কাগজ এসে গেছে।
- না মানে স্যার. আপনারা যা ভাবছেন তা নয়।
- চুপ করো ফাজিল ছেলে। ভালোই তো প্রপোজাল লিখতে পারো তা সামনে এসে প্রপোজ করতে পারোনি?
- নাহ আসলে...
-:শোনো তোমার ফাইল থেকে এটা পাওয়ার পর অরনি সোজা আমার কাছে চলে আসে। আর এসে সব আমাকে বলে আমি কাগজটা দেখায়। তারপর তোমাকে...
- জানি স্যারর,,আমাকে চাকরিতে আর রাখা যাবে না। আসলে ফাইলটি চেক করতে আমি দেরি করেছিলাম আর কাগজটি ওর মধ্যে রয়ে গেছিল। শফিকই তো সব পাকিয়ে দিয়েছে।
- হাহাহাহাহা...বেশ করেছে। আর তোমাকে চাকরিতে রাখা যাবে না কেনো? অরনি তোমার কাগজ পেয়ে এই ৪ দিন অনেক ভেবেছে তোমাকে নিয়ে। তুমি তাকে আড়ালে এত ভালোবাসো সে জানতোই না। সে অনেক বিয়ের সম্মন্ধ না করে দিয়েছে বহুবার। সে চেয়েছিল আরো বড় হতে। কিন্ত এখন সে তোমাক বিয়ে করতে চাই। তুমি তাকে ভালোবাসো তা বলোনি কেনো আগে থেকে? যাও আজ তোমাকে তাড়াতাড়ি ছুটি দিলাস। বাসায় যাও তোমার পরিবারকে বলো যে আমরা আসছি। যাও..
আমি আর দাঁড়ালাম না। সোজা বসের কেবিন খেকে বের হয়ে গেলাম। শফিবের ডেক্সের সামনে এসে হাসি মুখে বললাম..
- ধন্যবাদ।
- হুহ এখন ধন্যবাদ লাগবে না।
- আপনিই তো রিয়েল হিরো
- হয়ছে পাম দিতে লাগবে না দাওয়াত দিলে হবে।
আমি কিছু বললাম না। এমনিতেই অরনি দেখতে সুন্দর। সব ছেলে সব ছেলে স্টাফ তার জন্য মরিয়া হয়ে থাকে একনজর দেখবে বলে। আমিও দেখতাম দবে সেভাবে না। কেবল সৌন্দর্য উপভোগ করতাম আরকি। আর কোথা থেকে যে কি হয়ে গেল। চেয়েছিলাম রাফিনের প্রেমটা সলফ করবো তার আগেই আমারটা হয়ে গেল। অফিস থেকে বের হওয়ার সময় সবাইকে ইনভাইট করে আসছি। রিকশাতে করে বাসায় যাচ্ছি আর ভাবছি..
"ভূল থেকে যদি ভালো কিছু হয় তাহলে ভূলই ভালো" হিহিহিহি...
-----'(সমাপ্ত)'-----
.
Abir Hasan Niloy (মি. ভূত)
Comments
Post a Comment