প্রিয়তা তুমি কেমন আছো?
আপনি কাজটা ঠিক করেননি,একদমই ঠিক করেননি নয়ন সাহেব।এমন হুট করে কেউ কারো ঠোঁটে চুমু খায়।
আমি কিছু বলতে পারি না প্রিয়ন্তীকে,নিচের দিকে তাকিয়ে থাকি।তার চোখের দিকে তাকাতে আমার কেমন যেনো ভয় হয়।তার রাগী চেহারাটা দেখতে ভালো লাগলেও আমি এখন দেখতে পারছি না।
মেয়েটি যখন কলেজ থেকে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে বাড়ি গেইট দিয়ে ঢুকল তখন আমি গেইটের অপর পাশেই দাড়িয়ে ছিলাম।পুরো শরীর ভিজে একা কার।ইচ্ছে করছিলো তার ঐ ঠোঁট দয় ছুঁয়ে দিতে।তখন আমার কি হয়েছিলো আমি নিজেও জানি না।আমি সত্যি সত্যি তার ঠোঁটে চুমু খেয়ে বসলাম এবং আর এক মুহূর্ত ও তার সামনে দাড়িয়ে থাকতে পারলাম না।
তাকাতে পারলাম না তার চোখের দিকে।
রুমে আসার পর থেকে আমার শুধু ঐ ব্যাপার টাই মনে হতে লাগল।নিজেকে বার বার অপরাধী অপরাধী লাগছিলো।
এরপর প্রায় দুই দিন আমি আর বাড়ি থেকে বের হইনি। যদি প্রিয়ন্তীর সামনে পড়ে যা-ই এই ভয়ে।সেদিন যখন ছাদে দাড়িয়ে আকাশ পাণে তাকিয়ে ছিলাম তখন প্রিয়ন্তীও ছাদে এসে ছিলো। কিন্তু আমি পারিনি তার সামনে দাড়িয়ে থাকতে,যদি কিছু বলে এই ভয়ে আমি নেমে গিয়েছিলাম।
নিজেকে নিজের ছোট মনে হচ্ছিলো,একবার তো সেদিনের জন্য দুঃখীত বলতে পারতাম।
আচ্ছা মেয়ে টাকি আমাকে অন্য ছেলেদের ন্যায় খারাপ ভাবছে।উফ্,,
আসলে প্রিয়ন্তী ঐ দিনের জন্য আমি দুঃখীত।আসলে তখন আমার কি হয়েছিলো আমি নিজেও বলতে পারবো না।দয়া করে ক্ষমা করে দাও,জানো ঐ দিনের পর থেকে নিজেকে কেমন অপরাধী অপরাধী মনে হচ্ছে।
-যা করার তো তা করেই ফেলেছেন। এখন নিজেকে অপরাধী ভেবে কি লাভ,,
তারপরও ক্ষমা করে দিলে হয় না,
-জান ক্ষমা করে দিলাম,,
মুচকি হাসলাম একটু আমি।এত সহজ ভাবে নিবে ব্যাপারটা ভাবিনি আমি কখনো।
আচ্ছা দাদা ভাই তুমি কি আমাদের বাসায় ভাড়া থাকা ঐ মেয়েটির প্রেমে পড়েছো নাকি।মাঝে মাঝে দেখি,,আচ্ছা মেয়েটির নাম যেনো কি না,,
-প্রিয়ন্তী দাদা জান
-তা কি,,
-ভালোবাসি কি না জানি না দাদা জান,কিন্তু মেয়েটিকে না আমার খুব ভালো লাগে।অন্য মেয়ে গুলোর চাইতে আলাদা মনে হয়।
-হুম বুঝবার পারছি।আমার দাদা ভাইও প্রেমে পড়বার লাগছে,ভালোবাসবার লাগছে লুকিয়ে লুকিয়ে কাউকে,,,,
আমি একটু আওয়াজ করেই হাসলাম।সাথে দাদাও হাসছে।মানুষটা আমার খুব ভালো বন্ধু বটে।মাঝে মাঝে কোনো কারনে আমার মন খারাপ হলে মানুষটি কেমন করে যেনো বুঝে যায়।
-যখন ভালোই বাসিস তখন বলে দিতে পারছিস না,তা না হলে আমার মত তুকেও হারাতে হবে,,,
-তোমার মতো মানে,,,
তোর দাদির সাথে বিয়ে হওয়ার আগে আমারও এমন একজন ভালোলাগার মানুষ ছিলো।হয়তো তার অজান্তে আমি তাকে ঠিকি ভালো বেসে ফেলেছিলাম, কিন্তু পারিনি বলতে ভয় হতো যদি কিছু বলে বা তার বাবার কাছে বলে দেয়।এই না বলার কারনেই আমি তাকে হারিয়ে ছিলাম।মেয়েটি তার বিয়ের কিছু দিন আগে আমার সাথে দেখা করে ছিলো,জানিস আমার লুকিয়ে লুকিয়ে তাকানোটা সে টিকই খেয়াল করতো।কিন্তু বলে নি কোনো দিন,জানিস মেয়েটি যাওয়া আগে শুধু এই টুকুই বলে ছিলো,,,
চাইলে বলতে পারতেন,আচ্ছা এখন কি একটি বার বলবেন ভালোবাসি।
আমি পারিনি তাকে বলতে।চলে এসে ছিলাম।চাইনি আর পিছু,চাইনি আবার মায়ায় জড়াতে।
মেয়েটিও যে আমাকে ভালোবাসতো সেটা জেনে ছিলাম সেদিন।আমার না বলাটাই হয়তো আমাদের দুজনের পথ আলাদা হয়ে গিয়েছিলো।
আচ্ছা প্রিয়ন্তীও কি আমাকে ভালোবাসে।একটি বার কি বলব তাকে,সে কি সত্যি আমাকে ভালোবাসে।আর ভাবতে পারি না আমি,ভয় হতে লাগে আমার,,,
তোমাকে একটা কথা বলার ছিলো প্রিয়ন্তী,,
-কি কথা বলুন
আচ্ছা তোমাকে যদি কেউ ভালোবাসার কথা বলে তখন তুমি কি করবে,,
-কি আর করব,টাটিয়ে একটা চড় দেবো,,,তা আপনি কেনো এমন,,,,,
আমি আর তার সামনে দাড়ালাম না,তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমে আসলাম।কথাটা এমন ভাবে বললো মনে হলো সত্যি সত্যি আমার গালে এসে লাগছে,ওরে বাবা,,,
ছাদ থেকে নামার সময় মেয়েটির হাসির আওয়াজ আমার কানে আসে।মেয়েটি হাসে, অনেক আওয়াজ করেই হাসে,,,,
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি বিছানার পাশে একটা চিঠি এবং কালো পাঞ্জাবি,এমন হুট করে এগুলো কেউ আমাকে দেয়ার কথা না,তা কে,,,
চিঠিটা হাতে নিয়েই আমি পড়তে লাগল,
ভালোবাসার প্রিয়,,,
আমি চাইনা দাদার মতো করে আমার প্রিয় মানুষটাকে হারাতে,পারবো ভুলে যেতে।
আমি জানি তুমি ভীতু কিন্তু এতটা ভীতু আমি জানতাম না,সেদিন বলতে গিয়েও বলনি, হয়তো আর কোনো দিন বলবেও না তুমি।কারণ তোমরা ছেলেরাই এমন লুকিয়েই ভালোবাসও।তাই আমি নিজেই বলে দিলাম,ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।
জানো আমার খুব ইচ্ছে প্রিয় মানুষটার কাঁদে মাথা রেখে সূর্য ডোবাটা দেখার।তোমাকে অনেক বার বলতে গিয়েও বলতে পারিনি।তাই আজ বলেই দিলাম,পূরণ করও না হয় আমার এই ইচ্ছে টা।
"ইতি তোমার প্রিয়তা"
বিকেলে যখন বের হলাম পাগলীটাকে নিয়ে তখন কেমন লজ্জা মাখা মুখ নিয়ে বসে ছিলো রিকশায় আমার পাশে।
তুমি কি জানো এই লজ্জা মাখা মুখে তোমায় কতটা মায়াবী লাগছে,ইচ্ছে করছে আর একটি বার ছুয়ে দিতে,,,,
প্রিয়ন্তী কিছু বলে না মুচকি হাসে,আমি হারিয়ে যাই তার হাসির পাণে।ডুবে যাই গভীরে,,,,,,
গল্প ঃপ্রিয়তা
Writer :Nayan Majumdrr Nayan
Comments
Post a Comment