সাদা কাঁশফুল নতুন করে

সিঁড়ি দিয়ে উঠছি। দুইতলার ব্যাক সিঁড়ির ফাঁকা জায়গাতে আসতেই শুনতে পেলাম "ঐ মি. কানা নাকি? চোখে চশমা পরেও চোখে দেখেন না?" আমি হকচকিয়ে সামনে তাকায়। একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। গড়ন অনুসারে মেয়োটা হয়ত সেভেন বা এইটে পড়ে। আমার দিকে রাগি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। আমি আস্তে গলায় বললাম "সরি.. ব্যাকে এসে খেয়াল করিনি কেউ.." মেয়েটা আমার কথা থামিয়ে দিয়ে বলে "কেউ আসছে তা দেখবেন কেনো? জানেন আমি এলাকায় কত সুন্গরী একটা মেয়ে? সবাই চান্স নিতে চায়, আপনি বাদ যাবেন কেনো?" আমি বোকার মত মেয়েটার দিকে তাকায়। কি বলে মেয়েটা? বড়জোর ক্লাস এইটে পড়ে সে। আমার মাস্টার্স কম্পিলিট শেষে চাকরির দুইবছর পারও হয়ে গেছে। আর আমি নাকি বাচ্চা মেয়ের সাথে চান্স নেবো? তবুও ভদ্রতার সহিত বললাম "আমি সত্যিই দেখিনি। তুমি পিচ্চি তো তাই..." মেয়েটা আরো রেগে যেয়ে বলে "ঐ ঐ কারে পিচ্চি বলেন আপনি? চিনেন আমি কে? এলাকার বড় আপুদের যেয়ে জিগাইবেন আরশিয়া কেডা। আইছে আমাকে পিচ্চি বলতে। ফাজিল কোথাকার, নিজের দিকে তাকিয়েছেন? প্রায় ছয় ফুট হবেন, তো কি হয়েছে? আমাকে পিচ্চি বলেন কোন সাহসে?" 

আমি কি বলবো বুঝতে পারছিনা। কেবল হা করে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। নিজেই নিজের নাম বলে দিয়েছে আরশিয়া। আবার নাকি বড় আপুদের যেয়ে জিজ্ঞাসা করতে হবে আরশিয়া কে। আজব.. কুমিল্লাতে এসেছি এই মাত্র। বড় মামার বাড়ি। এর আগে কখনো কুমিল্লাতে আসা হয়নি আমার। আত্বীয়দের বাড়ি আমাকে আম্মা, আব্বা কেউ নিয়ে যেতে পারেনি। কারণ আমি একটু ভীন্ন ধরণের মানুষ। রুম আমার প্রিয় জায়গা। আত্বীয়রা আসলে আমি মোটেও রুম থেকে বের হতাম না। তাই মা বিরক্ত হয়ে আমাকে বোর্ডিং এ পাঠিয়ে দেয় ছোট বেলাতেই। এ জন্য কোথায় কোন আত্বীয় আছে তা জানাই ছিল না। কিন্তু কুমিল্লাতে আসতে হয়েছে। যদিও আসতে চাইনি, কিন্তু আসাটা দরকার ছিল। মামার বাড়ি দুইতলা। দুইতলাতেই থাকবো সেটাই ফাইনাল করা হয়েছিল। সে জন্য ঠিকানা, বাড়ির নম্বর সব মিল করে দুইতলাতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু সিঁড়িতেই দেখা হয়ে গেলো এই মেয়েটির সাথে। আমার চুপ থাকা দেখে মেয়েটি বললো "সরি বলেন, আমাকে ধাক্কা দিয়েছেন, মাফ করে দিতাম। কিন্তু আমাকে পিচ্চি বলেছেন, একদমই সরি না বলা অবদি ছাঁড় নেই। সরি বলেন বলছি।" পরিস্থিতি খারাপ বুঝে, তাড়াতাড়ি সরি বলে দিই।

মেয়েটা পাশ কাঁটিয়ে চলে যায়। আমি জোরে একটা নিঃশ্বাস ছাঁড়ি। আমার পিছনে যেতেই মেয়েটা বললো "এ ছেলে.. আমাকে আপনি প্রথম দেখায় তুমি করে কেনো বললেন? আপনি তো প্রচুর বেয়াদব। যাইহোক, হ্যাভ এ রিল্যাক্স, সি ইউ নট ফর মাইন্ড।" কথাটা বলেই মেয়েটা দৌড়ে চলে যায়। আমি অনিমেষ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকি সেদিকে কিছু সময়। বড় মা, মামি থাকে জানতাম। কিন্তু মামারা ঘরগুলো ভাড়া দিয়েছে জানলে একদমই আসতাম না এখানে। কোলাহল আমার একদমই প্রিয় না। আমার নিঃস্বঙ্গ প্রিয়। আমি উদাস বিকেল ভালোবাসি। আমি বিদঘুটে অন্ধকারাচ্ছন্ন সন্ধ্যা ভালোবাসি। আমি নিরব মাঝরাত ভালোবাসি। এ সময়গুলোতে কানে হেডফোন লাগিয়ে আর্টসেলের গান..
"নোনা স্বপ্নে গড়া তোমার স্মৃতি
শত রঙে রাঙিয়ে মিথ্যে কোনো স্পন্দনে
আলোর নিচে যে আঁধার খেলা করে
সে আঁধারে শরীর মেশালে…হে…

আজ আমি ধূসর কি রঙিন সময়ে
পথে হারাই তোমাতে

জীবনের কাঁটা তারে তুমি অন্তহীনের অপূর্ণতায়
বেওয়ারিশ ঘুড়ি উড়ে যাও অনাবিল আকাশের শূণ্যতায়

তবু আমি…

কি খুঁজি মানুষের বিষাদের চোখে
কোথায় আলোর উৎসবে স্বপ্নের প্রতিবিম্ব ভাঙে
একা একা আমি থাকি দাঁড়ায়ে
স্মৃতির ঝড়ো বাতাসে
দুজনার শরীর মেশে।"
.
মামা এই বাচ্চা মেয়েসহ এমন পরিবার ভাড়া রেখেছে জানলে, আগে কখনোই কুমিল্লাতে পা দিতাম না। অসহ্য লাগছে। হাঁটতে হাঁটতে নিজের রুমে আসলাম। আমি কোন রুমে থাকবো তা আগেই বলেছিলাম ডিরেকশন অনুসারে। তাই রুম খুজতে সময় লাগেনি। বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই মামি দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়। আমাকে দেখে বলে "ভিতরে আসবে?" আমি উঠে দাঁড়ালাম। "জ্বি আসুন।" হাতে চা নিয়ে ভিতরে আসলেন মামি। টেবিল রেখে বলে "এই প্রথমবার আসলে এখানে। অসুবিধা হয়নি তো?" আমি মামির দিকে সুলভ দৃষ্টিতে তাকালাম। পরক্ষণে কিছুটা বিরক্ত নিয়ে বললাম "মামি.. আপনারা ভাড়া রাখেন রুম?" মামি কঁপাল কুঁচকে তাকিয়ে বলে "কে বললো? পুরো বাড়িটাতেই তো আমরা থাকি।" আমি বললাম "আমরা? মানে মামা, আপনি আর কে?" মামি একটু হাসি দিয়ে বললো "আমি, তোমার মামা আর আরশিয়া। ওর সাথে দেখা হয়নি? সে তো এখানেই ছিল। তোমার রুম গুছিয়ে দিচ্ছিল। ডাকবো?" আমি মামির কথায় তাড়াতাড়ি বলি "না না থাক, ডাকতে হবেনা। বুঝতে পেরেছি।" মামি আবারো একটা হাসি দিলে বলে "আচ্ছা, তাহলে ফ্রেশ হও, খাবার রেডি করছি।" মামি কথাটা বলে সেখান থেকে চলে যায়।
.
বিকেল হয়েছে। আমি ছাদে দাঁড়িয়ে আছি। সামনে খোলা মাঠ। হঠাৎ একটা ঢিল আমার পিঠে এসে পড়ে। আমি উফ বলে আশেপাশে তাকালাম। নিচে দাঁড়িয়ে আছে আরশিয়া। সাথে ওরই সমবয়সী একটা মেয়ে। আমি জোরে বললাম "ঐ বাচ্চারা, এখানে কি? যাও বাহিরে যাও। ঢিল ছুঁড়ে খেলার জন্য বাহির ভালো জায়গা।" কথাটা বলেই ঢিলটা ওদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে আগের জায়গাতে এসে দাঁড়ালাম। কিছু সময় পর শুনতে পেলাম "ঐ মিস্টার আবির, আমরা বাচ্চা? আমাদেরকে বাচ্চা কেনো বললেন? এদিকে তাকান বলছি।" আরশিয়া এসেছে। আমি সামনে ঘুরতেই আমার গায়ে এক বালতি পানি এসে পড়া শুরু করে। আচ্ছা বেয়াদব মেয়ে তো। গায়ে পানি দিয়েও লজ্জিত ভাব নেই ওর মধ্যে। বরং কোমরে হাত গুজে বলে.. "দেখুন, গাছে কত কাঁচা আম। ছাঁদে এসে পাঁড়তে দেয়না আব্বু। তাই নিচ থেকে ঢিল ছু্ঁড়ে পাঁড়ি। আপনার সমস্যা কোথায়?" আমি ভ্রুঁ কুঁচকে বললাম "ঢিলটা আমার পিঠে এসে পড়েছে। যদি মাথায় লাগতো?" আরশিয়া সহসায় বলে "তো... আপনার জন্য আম খাওয়া হলো না।" পাশ থেকে আরেকটা মেয়ে বলে "আরশি, থাক, ওনাকে আর বকা দিস না। দেখছিস না কত ইনোসেন্ট লাগছে।" আরশিয়া সাথে সাথেই উত্তর দিল "ঐ তিশা, নজর দিবি না একদম। তোর কয়টা লাগে রে? সেদিন না মুসতাককে ছেঁড়ে নয়নকে ধরলি। এবার আসছিস আমার ফুপাতো ভাইকে ধরতে? যা এখান থেকে। কোনো কথা বলবি না, যা। যাকে দেখিস তাকে ইনোসেন্ট লাগে তোর তাইনা? ফাজিল।"

আমি আরশিয়ার কথা শুনে হাসবো নাকি হাসবোনা ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না। তবে অবাক যে হয়েছি সেটা আর বলা লাগবে না। তিশা মেয়েটা চলে যায়। আমি সাহস করে প্রশ্ন করলাম "তুমি কিসে পড়ো?" আরশিয়া জোরে হেঁটে আমার রুম থেকে একটা তোয়ালে এনে দিয়ে বলে "ক্লাস নাইনে তিনমাস হল উঠেছি। তাতেই ৪০ থেকে ৫০ টা প্রপোজ পেয়েছি বুঝলেন? ভালো লাগেনা এসব। কালকেই একটা ছেলে আমার সামনে এসে হাত কাঁটলো। বললো 'আরশি তোমাকে না পেলে আমি মরেই যাবো।'" আমি আরশিয়ার কথা শুনে আরো অবাক হয়ে বললাম, "তুমি কি বললে?" আরশিয়া আমার পাশে এসে দাঁড়ালো। বেশ ভাব নিয়ে বললো "আমি বললাম, 'মরে যান। এমনিতে জনসংখ্যা বাড়ছে।' জানেন, আমার কথা শুনে ছেলেটা খেকশিয়ালের মত একটা লুক দেয়। জীবনে আর কিছু লাগে বলেন?" 

আমি ক্লাস নাইনে পড়া মেয়ের কথা শুনে হাবার মত তাকিয়ে থাকি। কিন্তু আরশিয়ার কথাগুলো শুনতে খারাপ লাগছে না। মেয়েটা বেশ চঞ্চল। কথা বলাতে বেশ পটু। মিশুকও অনেক। কত সহজেই আমার সাথে কত কথায় বলে ফেলেছে। ধারণা করেছিলাম এইটে পড়ে হয়ত। আরশিয়া বলে "তা মিস্টার আবির সাহেব, কয়টা প্রপোজ পেয়েছেন?" মেয়েটার কথা শুনে বিষম খেয়ে উঠি। কি ধরনের প্রশ্ন এটা? একটু রাগি গলাতে বললাম "নিচে যাও। একটা চড় দেবো, সবগুলো দাঁত একবার করে নড়তে শুরু করবে, ফাজিল মেয়ে। যাও এখান থেকে।" আরশিয়া চোখ টেঁরা করে তাকিয়ে বলে "হ্যাভ এ রিল্যাক্স।" তারপর সেখান থেকে দৌড়ে চলে যায়। আমি হাসছি। আরশিয়া আমার মামাতো বোন। ছোট থেকে নিজেকে একা করে রেখেছি।

মানুষের জীবন ছোট। এই ছোট জীবনে মানুষ কত কিছু পায়, কতকিছু হারায়। মানুষ হারানোর পর কষ্ট পায়। আবার পাওয়ার মাঝেও আনন্দ থাকেনা। মানুষ অন্যকে খুশি করতে ব্যস্ত। কিন্তু নিজেকে নিয়ে ভাবেনা। আমি পিছনে ঘুরলাম। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে প্রায়। আমি লাল সূর্যের দিকে তাকিয়ে আছি। সূর্যটা আমার ভীষণ প্রিয়। মানুষের ভিতরের রঙটাও যেন এখন লাল রঙের মত শান্ত হয়ে আছে। মাঝে মাঝে আমার ঐ লাল সূর্যের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করে 'মেঘ পরীকে রেখে কোথায় যাও?' পরক্ষণে ইচ্ছেরা ছুটি নিয়ে দৌড়ে মনের গেট পেরিয়ে হারিয়ে যায় বহুদুর অচেনাতে। আমিও হারাতে ভালোবাসি। আমিও বহুদুর হারিয়ে যায়। কিন্তু কি যেন একটা টান আমাকে আবার ফিরিয়ে আনে। সেই টানের নাম নিধি।
.
ইংলিশে অনার্স করা মেয়েটার প্রতি হঠাৎ করেই আকৃষ্ট হয়ে যাওয়াটা আমার হয়ত উচিৎ ছিল না। আমার চারপাশ তখন রঙিন মনে হতো। ভালো লাগার মানুষটাকে নিয়ে কল্পনা করতে অসম্ভব ভালো লাগতো। কল্পনাতে চাঁদের বাড়ি যেতাম। দুজনে মেঘের পালকিতে চড়তাম। এই ভালো লাগার পরিধি বিশাল। কিন্তু হঠাৎ করেই যেন সব এলোমেলো হয়ে যায়। নিধি বলে "তুমি কি আমায় বোঝো? কি পরিমান প্যারায় আছি? পড়ার কত চাপ আমার জানো? আর কি বললে রাতে? নেটে থেকেও রিপ্লে দিইনা কেনো? কার সাথে বিজি থাকি? দেরি করে কেনো সিন করো? রিপ্লে দিতে কেনো দেরী করো? কিসের এত ব্যস্ততা? সারাক্ষণ অনলাইনে কেনো থাকি? সমস্যাটা কি আমার? কত রকম প্রশ্ন। আচ্ছা একটা মানুষ কি সারাক্ষণ চ্যাট করার জন্যই অনলাইনে থাকে? আমার কি অন্য কোনো কাজ থাকতে পারেনা? এত প্রবলেম কেনো ভাই তোমার? সবকিছুর জন্য এত এত কৈফিয়ত রাখো কেনো? এত সমস্যা হলে চলে যেতে পারো তুমি।"

আমি নিধির কথায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকি। মেয়েটাকে ভালো লাগতো ভীষণ। কখনো বলার সাহস খুজে পাইনি আমি। কিন্তু যখন নিধি বুঝলো আমার ভালো লাগাটা, তখনি আমাদের ভীতর টুকটাক কথা শুরু হয়। আমার এই চরম ভালোলাগাটা ভালোবাসায় রুপ দেয় সে। আমি তাকে ভালোবেসে ফেলি। আর তাকে হারানোর ভয়ে সবসময় তার কাছে থাকার চেষ্টা করেছি। অনলাইনে দেখলেই মেসেজ দিতাম। প্রতিদিন তিনশো, চারশো মেসেজের পর সে রিপ্লে দিত হুম বলো। আমি ফ্যালফ্যাল করে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকতাম। দেখা করতে চাইলে কাল কাল করতে করতে দু তিন মাস পার করে দিত। শুনেছিলাম ভালোবাসলে দুজনের মধ্যে একজনের অবহেলিত হতে হয়, একজনকে ছ্যাঁচড়া হতে হয়। না হলে ভালোবাসাটা বেশিদূর আগায় না। দুজন মানুষের ভিতর যেদিন ইগো চলে আসে, সেদিন আর সম্পর্ক থাকে না। আমিও যেন এই ছ্যাঁচড়ামি করতাম। কি করবো? তাকে নিয়ে মেতে থাকাটাই তো আমার ভালোবাসা ছিল। সবটা দিয়ে ভালোবাসা দেখিয়েছি, চেয়েছি, জানিয়েছি, বুঝিয়েছি। কিন্তু সে আমাকে বোঝেনি।

আমি ইতস্ত গলায় বললাম "আমার চাওয়াটা কি খুব বিশাল? অতি সীমিত নিধি। সারাদিনে একটুখানি কথা বলাটা আমার প্রেমের তৃষ্ণা মেটাই। তোমার বাড়িতে সমস্যা, ক্লাসে থাকো, বন্ধুদের সাথে থাকো। কেউ থাকলে আমার সাথে কথাই বলো না। রাতে ফোন দিলেও ক্লান্ত আছি বলো। কথা বলার জন্য জোর করলে সারাদিন কি কি করেছো তার বর্ণনা দিয়ে ফোন কেঁটে দাও। আমার কি করার আছে বলো? আমার কি কোনো কিছু তোমার থেকে পাওয়ার থাকতে পারেনা? আমার কি কিছুই চাওয়ার থাকেনা? আমার ভিতরে তোমার কথা শোনার জন্য যে আকুলতা, তোমার হাসির শব্দ শোনার যে ব্যকুল হয়ে থাকি তা কি তুমি বোঝো না?" নিধি আমার দিকে তাকিয়ে বলে "না বুঝিনা, এই তোমার মত থাকো তো তুমি। অসহ্য।"

নিধি চলে যায় আমার সামনে থেকে। আমি শুধু তাকিয়েই থাকি তার দিকে। এভাবে কয়েকদিন চলে যায়। নিধির ভার্সিটির সামনে আমাদের অফিসের শাখা আছে। আমি সেখানে যাই। ভাবছিলাম নিধিকে এক পলক দেখে চলে আসবো। বেশ কয়েকদিন থেকে কথা হয়না নিধির সাথে। ওর ভার্সিটিতে এসে নিধির ডিপার্টমেন্টের সামনে এসে একটা মেয়েকে জিজ্জাসা করলাম "নিধিকে চিনো?" মেয়েটা জানায় "হ্যা চিনি, আমাদের সাথেই তো পড়ে। সে তো ক্যামপাসের পিছনে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে গেলো এই মাত্র। কিন্তু আপনি কে?" মেয়েটার থেকে কথাটা শুনে বুকের ভিতরটা মোঁচড় দিয়ে ওঠে আমার।

আমি পাগলের মত সেদিকে হেঁটে যাই। আশেপাশে তাকাতেই একটা কাপলের দিকে চোখ আটকে যাই। দূর থেকেই নিধিকে দেখা যাচ্ছে। কারো কাধে মাথা রেখে বসে আছে সে। আমি ফোন দিলাম নিধির নাম্বারে। সে প্রথমে কেঁটে দেয়। আমি আবারো দিতে থাকি। কিছু সময়, ছেলেটার পাশ থেকে উঠে সাইডে এসে দাঁড়ায়। ফোন রিসিভ করে। হ্যালো বলতেই নিধি ঝাড়ি দিয়ে বলতে থাকে "কি সমস্যা তোমার? বারবার ফোন কেনো দিচ্ছো? আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্লাসে আছি। থিসিচ লিখছি, স্যার চলে আসবে এখনি। পরে***" আমি নিধির সামনে দিয়ে হেঁটে যাই। নিধি আমার দিকে তাকালো। আমিও একবার তাকিয়ে মুচকি হেসে সেখান থেকে চলে আসি।

তারপর সোজা বাড়িতে এসে সেই যে রুমে প্রবেশ করেছিলাম। আটমাস পর বের হয়েছি। আর বের হয়েই কুমিল্লাতে চলে আসি আমি। নিজেকে অনেক কাঁদিয়েছি। সময় আর কাঁটেনা। সবকিছু থমকে গেছে। আমার মনের আকাশে কালো মেঘ জমেছে। যে মেঘ দমকা, বা ঝড়ো বাতাসেও সরবেনা। এ জন্য নিজেকে সেই কালো মেঘের আড়াল করতে জায়গা পরিবর্তন। তবে এখানে বেশ অন্যরকম লাগছে।
.
দুইদিন পর

ভোরের নামাজ শেষ করে ছাঁদে পায়চারি করি। তখন সকাল ছ'টা বাজে। হঠাৎ নিচ থেকে আরশিয়ার কান্না শুনতে পাই। ভ্যা ভ্যা করে কান্না করছে মেয়েটা। এই বাচ্চা মেয়েটাকে নিয়ে সব জ্বালা। দ্রুত হেঁটে নিচে আসি। আমি নিজেই কখনো বাড়ির কারো কিছু হলে দেখতে যেতাম না। কিন্তু আরশিয়ার কান্না শুনে কেমন একটা অস্থিরতা কাজ করে আমার। নিচে এসেই দেখি আরশিয়া স্কুল ড্রেস পরে, মেইন দরজার সামনের সিঁড়ির উপর বসে আছে। আমি যেতেই মামি বললেন "দেখো না বাবা.. এই চঞ্চল মেয়েকে নিয়ে একদমই পারিনা। নামার সময় পা মচকে বসে আছে। এখন কিভাবে স্কুলে যাবে বলো তো?" আমি আরশিয়ার দিকে তাকালাম। কেঁদেই চলেছে। "রিকশা ডেকে পাঠিয়ে দিন। সাথে মেডিসিন দিয়ে দিন খেয়ে নেবে।" কিন্তু বাসায় তো ঔষধ নেই। আর ও একা যেতে পারবে না এইভাবে।" আমি মামির দিকে তাকিয়ে বললাম "হুমম, তা ঠিক বাচ্চা একটা মেয়ে, রাস্তায় আবার ভ্যা ভ্যা করে কান্না করে দিতে পারে।"

আমার কথা শুনে আরশিয়া সাথে সাথেই বলে "আম্মু, খাবির আমাকে বাচ্চা বলেছে। স্কুলেই যাবো না। আমাকে কেনো বাচ্চা বলবে ঐ ব্যাটা আবিরের বাচ্চা খাবির,গাবির, টাবির পঁচা গোবর।" আমি হা করে তাকিয়ে থাকি আরশিয়ার দিকে। আমার নামের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। আমার মা কখনো আমাকে ঝাড়ি দিয়ে কথা বলেনি। আর এই মেয়ে আমাকে তো ঝাড়ি দেয়, সাথে আমার নামটাকেও রোস্ট করে দিয়েছে। "কান্না থামা, আবির একটা কাজ করো। তুমিও ওর সাথে যাও। তাহলে কোনো সমস্যা হবেনা।" মামি কথাটা বলে আমার দিকে তাকালো। আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, তার আগেই আরশিয়া বললো "এত সকালে তোমার কোন বেয়াইয়ের ছেলে রিকশা নিয়ে আমার জন্য দাঁড়িয়ে আছে আম্মু? আমাকে বলো, সাইকেল চালিয়ে রেখে আসতে।" আরশিয়ার কথা শুনে রাগ, কষ্টগুলো কোথায় যেন সব উবে যাই। মেয়েটা আসলেই অনবদ্য। 
.
আমি সাইকেল চালাচ্ছি। আরশিয়া সামনে বসে আছে। চুলগুলো খোপা করা। পাঁকা রাস্তার একপাশ দিয়ে যাচ্ছি। আরশিয়া বলে "মিস্টার আবির সাহেব, দেখুন না আমার মাথায় কিছু একটা পড়েছে। চুলে গোজা কাঁঠির ওখানে, কাঁঠিটা টান দিয়ে দেখুন তো।" আমি এক হাত দিয়ে আরশিয়ার চুলে গোজা চুলকাঁঠি টান দিলাম। সাথে সাথেই ওর খোটা করা চুল খুলে যায়। পিঠের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আসে। কিছু চুল বাতাসে আমার মুখের উপর এসে পড়া শুরু করে। শ্যাম্পু করা চুলের ঘ্রাণ আমার নাকে আসতেই আমি যেন অন্যরকম অনুভব করতে শুরু করি। কিন্তু এই অনুভবের কোনো নাম নেই। ওর স্কুল ব্যাগ আমার কাধে। আগে কখনো এমন কিছুই করিনি। কোনো মেয়ের এত কাছেও আসিনি। আমার মনে হঠাৎ করে বিষাদের গান পাল্টে রোমান্টিক কোনো হিন্দি গান বাঁজতে শুরু করেছে।

"ঐ আবির সাহেব, রাখেন রাখেন, স্কুলের সামনে চলে এসেছি। মন কোথায় হা? চারপাশে কি নজর আছে? নাকি স্কুলে পড়া মেয়েদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন? সরেন।" আমি ডান পাশে তাকালাম। গার্লস স্কুলের সামনে এসেছি। আরশিয়াকে বললাম "তোমার ব্যাথার ঔষধ?" আরশিয়া সাইকেল থেকে নেমে ভাব নিয়ে দাঁড়ালো। তারপর একটা ছোট্ট ঝাপ দিয়ে বললো "পায়ে লাগছে নাকি? বোকাসোকা লোক যান ভাগেন।" আরশিয়া কথাটা বলেই, ব্যাগ নিয়ে সেখান থেকে চলে যায়। আমি আসলেই বোকার মত দাঁড়িয়ে থাকি সেখানে। সে চুলগুলো বাঁধতে বাঁধতে ভিতরে প্রবেশ করে। কিন্তু সে আমাকে বোকা কেনো বললো? এরাকম কি করেছি আমি?
.
কেমন একটা অস্থিরতা কাজ করছে। আরশিয়ার স্কুল ছুটি হবে। আমি কি যাবো আনতে? না না, এটা কেমন নির্লজ্জ্বের মত কাজ হবে। বাচ্চা একটা মেয়ের প্রতি এমন অহেতুক টান অনুভব করাটা অন্যায়। তার উপর সে আমার মামাতো বোন। ধুর কি সব ভাবছি আমি? আমার এখান থেকে চলে যেতে হবে। কথাগুলো ভাবছি আর পায়চারি করছি, মামি এসে বলে "আরশিয়াকে নিয়ে আসো তো বাবা, সে ব্যাথা পায়ে আসতে পারবেনা।" তখনি মনে পড়ে, ওর পায়ে ব্যাথা নেই। সে মূলত আমার সাথে যাওয়ার জন্যই এমন করেছিল। কিন্তু আমি মামিকে সত্যটা বলতে যেয়েও অজানা কারনে আটকে যাই। কখন যে সাইকেলের কাছে এসে দাঁড়িয়েছি খেয়ালই করিনি।
.
আরশিয়ার স্কুল ছুটি হয়েছে। সে বের হয়। আমাকে দেখেই দৌড়ে আসে। পিছনে ওর কয়েকটা বান্ধবি। আমাকে দেখেই একটা মেয়ে বললো "আরশি, এটা তোর ভাই নাকি?" আরশিয়া সাথে সাথেই বলে "তোরে বলছি সে আমার ভাই? বেয়াদব মার্কা কথা বলিস কেনো তোরা? সে হল মিস্টার আবির সাহেব। আর তোরা ওকে মিস্টার আবির সাহেব বলবিনা। ওটা আমার দেওয়া নাম। আর এখান থেকে কেঁটে পড়। না হলে তোদের বয়ফ্রেন্ডদের বলবো তোরা ছেলেদের দিকে তাকিয়ে থাকিস। যা ভাগ।" আমি সাথে সাথেই বলি "আরে কোথায় যাও তোমরা। আসো পরিচিতি***।" আমাকে থামিয়ে আরশিয়া বললো "যাসনি এখনো?" সবগুলো দৌড়ে চলে যায়। আমি মুচকি হাসি।

আরশিয়াকে সাইকেলে নিয়ে ফিরছি। কোনো কথা বলছে না। গম্ভীর হয়ে বসে আছে। আমি প্রশ্ন করলাম "কিছু বলছো না যে?" আরশিয়া তখনি বলে "আমি কি বলবো? আমি তো আর অচেনা নয়, যে পরিচিত হবেন। যত্তসব আজাইরা কথা, বেটা খাবির।" আমি হাসতে হাসতে বলি "নামটা রোস্ট করে দিয়েছো।" আরশিয়া বলে "আপনার কি? আমি যা খুশি ডাকবো। অন্যকেউ তা ডাকতে পারবে না।" আমি বলি "কেনো?" সে আরো রাগি গলায় বলে "যা আমার, তা আমারই থাকবে। আমাতেই বিদ্যমান থাকবে। আমিই তাকে সবকিছু দিয়ে হ্যাপি রাখবো। এরপরও যদি সে অন্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তাহলে তাকে খুন করে দেবো।" আমি কিছু বললাম না। বুঝে গিয়েছি আরশিয়ার কথার মানেগুলো। নিরবে সাইকেল চালাতে থাকি। এখানে আর থাকবো না। আমার ভিতরে থাকা ভালোবাসার ঘরটা এখন তালাবদ্ধ হয়ে আছে। আর এটা অন্যায়, সে আমার থেকে অনেক ছোট। কেউ মেনে নেবে না। এখান থেকে আমার যেতে হবে।
.
চারদিন পর

আরশিয়া স্কুলে চলে গেছে। আমি রেডি হয়ে মামির সামনে আসলাম। মামিকে সালাম করে বললাম "আমাকে যেতে হবে ঢাকাতে। অফিসে জরুরি কাজ পড়ে গেছে। আমি মাকে সব বুঝিয়ে বলবো। আসি মামি।" কথাটা বলে, ওনার সামনে থেকে চলে আসি। তারপর রিকশা নিয়ে সোজা বাস স্ট্যান্ড। তারপর বাসের টিকিট। ত্রিশ মিনিট পর বাসে উঠে সোজা ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি।
.
একমাস হয়েছে ঢাকাতে এসেছি। অফিসে বসে আছি। আজকে ভালো লাগছে না। লান্স শেষ করে বসের কেবিনে যেয়ে ছুটি নিলাম। অফিস থেকে বের হয়ে রিকশা করে বাড়িতে ফিরতে ফিরতে বিকেল হয়ে গেছে। বাড়ির গেট খুলে ভিতরে আসলাম। একটা প্রাইভেট রাখা দেখি উঠানে। ভিতরে আসলাম। নাহ, বাড়িতো ফাঁকাই দেখছি। তাহলে কে এসেছে? যে আসে আসুক। আমার কি? আমি রুমে গেলাম। রুমের দরজা আটকে, লাইট অন করতেই চমকে উঠি। আমার বিছানায় আরশিয়া বসে আছে। চোখের নিচে কালি পড়া। কানে হেডফোন গুজে কি যেন দেখছে আর মুচকি হাসছে। আমার দিকে তাকালো না। আমি কাছে যেয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে দেখি তাহসান আর সাবিলা নূরের রোমান্টিক নাটক দেখছে। 

"তুমি... তুমি এখানে?" আরশিয়া আমার দিকে একবার তাকালো। তারপর আবার ফোনের দিকে তাকায়। আমি কি করবো বুঝতে পারছিনা। একটু জোর গলায় বললাম "ঐ পিচ্চি, এখানে কেনো?" আরশিয়া ফোনটা বিছানায় রাখে। পিঠে হেলান দেযা বালিশটা উঁচু করে একটা ছুরি বের করলো। আমার দিকে না থাকিয়ে ছুরিটা হাতের মধ্যে নিয়ে নাচাতে থাকে। "কাকে যেন বলেছিলাম আমাকে পিচ্চি না বলতে? সে জানেনা আমার মনটা পিচ্চি না। কিন্তু সে কেনো মনে রাখবে? সে তো একটা চোর, বদজাত, খাট্টাশ, খাবির, গাবির।" আমি ভ্রু কুঁচকে তাকালাম আরশিয়ার দিকে। আমার কাছে এসে হাতে ছুরি গুজে দিয়ে, জোরে ফুপি বলে ডাক দেয়। সাথে সাথেই মামা, মামি, মা, বাবা দৌড়ে আমার রুমে আসে। আরশিয়া বলতে থাকে "ফুপি তোমার ছেলে একটা গুন্ডা। আমাকে ছুরির ভয় দেখিয়ে বলে আমাকে ভালোবাসো কিনা বলো। দেখো দেখো আমার দিখে খেঁকশিয়ালের মত লুক দিচ্ছে। এবার খাট্টাশের মত লুক, দেখো না কেন তোমরা?" 

আরশিয়ার কথা শুনে সবাই হেঁসে দেয়। মামি এসে আমার থেকে ছুরিটা নিয়ে নিল। বাবা আরশিয়াকে আমার রুম থেকে নিয়ে যায়। মা, মামি আর মামা আমার সামনে বিছানায় বসলেন। মা বলে "ঐ কি করেছিস তুই কুমিল্লাতে যেয়ে? পালিয়ে আসছিলি কেনো? আরশিয়া কি খারাপ বল? ভালো একটা মেয়ে, তবে চঞ্চল। তোকে সোজা করতে পারবে মেয়েটা। তোকে হাসাতে পারবে খুব।" আমি মাথা চুলকাতে থাকি। বোকার মত প্রশ্ন করি "কি বলছো এগুলো?" মামি বলে "তুমি আসার পর আরশিয়া ঠিকভাবে আর খায়না। রাত জেগে বিড়বিড় করে কি সব বলে। জানতে চাইলে এড়িয়ে যায়। কিন্তু একদিন এসে জড়িয়ে ধরে বলে 'আম্মু, মনে করো আমি নিউটন। আর আবির সাহেব হল পাঁকা আপেল। হঠাৎ করে সে আমার মনে এসে টুপ করে পড়ে। আমি কি খাবো? নিউটন তো আপেল খায়না, রেখে দেয়। আমিও তো রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার আপেলটা বড্ড বদজাত, হাত পা আছে তো তাই সে পালিয়ে গেছে। এখন আমার মাথায় আপেলের বদলে বাজ পড়েছে। আমাকে বাঁচাও। না হলে আমি এক শিশি মধু খেয়ে সুসাইডের নাটক করবো বলে দিলাম।"
আরশিয়ার কথা শুনে হেসে ফেলি। এমন করে কেউ ভালোবাসার কথা জানাতে পারে বাড়িতে? যদিও তোমার মা আর আমার আগে থেকেই তোমাদের চার হাত এক করার গোপন কথা ছিল। কিন্তু এটা কাঁকতালীয়ভাবে সত্য হবে কে জানে? কিন্ত পরে ওকে বললাম "কি বলিস কিছুই তো বুঝিনা?" সে বলে "ধুর, আবির খাবির কে কেনো বোকা বলবো? বোকা তো আমার মা। কার কাছে এসে নিউটন সাজলাম রে? জাতি এই নতুন নিউটনকে আর মেনে নিলো না। বিদায় ফিতিবি। ধুর মা, ওনাকে বহুত আই লাভ করি বুঝো না কেন?" তারপর আরকি। তোমান মায়ের সাথে কথা বলি। এরপর সুযোগ বুঝে চলে আসি এখানে। বাকিটা তোমার মত।

আমি হাসবো নাকি কষ্ট পাবো ঠিক বুঝতে পারছিনা। কিন্তু একমাস আমিও যে আরশিয়ার সঙ্গ অনুভব করেছি তা ঢের বুঝে গেছি। একমাত্র আরশিয়াই পারবে আমার মত গম্ভির ছেলেটাকে হাসি খুশিতে রাখতে। আমি বললাম "আচ্ছা ঠিক আছে, তবে সে এখনো ছোট। বিয়ের কথা ভাবতেই পারছিনা।" মামা বলে "আংটি পরিয়ে রাখি। সে কলেজে উঠলে না হয় অনুষ্ঠান করে বিয়ে করানো হবে।" সবাই মত দেয় এটাতে। আমি একটু হেসে রুম থেকে বের হলাম।
.
ব্যালকণিতে দাঁড়িয়ে আছে সে। আমি ওর পাশে যেয়ে দাঁড়ালাম। আমার দিকে তাকিয়ে বললো "প্রোপারটি কিন্তু রেজিস্ট্রি করে নিছি। মেয়ে কলিকদের বলবেন, স্ট্যাম্প করা শেষ বাকিটা সময় বুঝে ব্যবহার করা হবে আমার জমিটাকে।" আমি হেসে দিলাম। আরশিয়াও হাসছে। কি বলবো আমি? মেয়েটার কথাগুলো শুনতেই ভালো লাগছে। আজ তাহলে আমাদের আংটি বদল হতে যাচ্ছে। "ঐ প্রপোজ করেন তো একটু আমাকে? যা মনে আসে তাই বলুন। আমি জানি কিন্তু আপনি আমাকে ভালোবাসেন। আপনার ডায়েরি পড়েছিলাম হালকা। নিধির চ্যাপ্টার বাসর ঘরে দেখে নেবো। প্রপোজ করেন মিস্টার আবির সাহেব।"

আমি কি বলবো খুজতে থাকি। যা মনে আসছে বলা শুরু করলাম। "অভিযোগ শুনতে রাজি, অভিমান নয়। আজ এই সন্ধ্যে কদম নিয়ে আসবো। পরের বৃষ্টিতে না হয় শিউলি। তবুও অভিমান নিয়ে থাকা চলবে না কখনো।
পরাজিত প্রেম তোমাকে দেবো না স্বাতি ।
এই উন্মুল জীবনের বোনা স্বপ্নের ছেঁড়া তাঁত
তোমাকে দেবো না,তোমাকে দেবো না স্বাতি ।
পরাজিত প্রেম তোমাকে দেবো না প্রিয়। তোমাকে দেবো কৃষ্ণচূড়া গচ্ছিত এক গুচ্ছ ভালোবাসা। চলবে?"

আরশিয়া মুচকি হেসে বলে,, "দৌড়াবে, মিস্টার আবির সাহেব।"
------(সমাপ্ত)------
সাদা কাঁশফুল
Abir Hasan Niloy

Comments

Popular posts from this blog

সখি, ভালবাসা কারে কয়?

বিয়ের দুই মাস পরের রাত

সুন্দর করে বাঁচতে চাই আমি