শেষ হলো আমাদের অন্তর্জাল
টানা পাঁচ ঘন্টা রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছে মিশৌরি। যেই ট্রেনে যাওয়ার কথা ছিল তার পরে আরো তিনটা ট্রেন চলে গেছে। এখন বাজে সন্ধ্যা ছয়টা। আজ মিশৌরির পালানোর কথা ছিল নাবিলের সাথে। কিন্তু নাবিল আসেনি। ফোনটাও বন্ধ করে রেখেছে সে। মিশৌরি এদিক ওদিক তাকাচ্ছে আর তার দুচোখ দিয়ে জল পড়ছে। কার ভরসায় বিয়ের দুদিন আগে সে বাড়ি থেকে পালিয়েছে তা ভাবতেই নিজের ওপরে ঘৃণা আসছে ওর।
বৃষ্টি এসেছে। হালকা অন্ধকার হয়ে এসেছে চারিদিকে। বৃষ্টির কারণে আশেপাশে লোকজন কম। মিশৌরি দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে। বাড়ি ফিরে যাওয়ার সাহস আর নেই ওর। ধীর পায়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সে। মনের মধ্যে শয়তান ভর করেছে ওর। শয়তানের ইশারায় রেলের পথে এগিয়ে চলেছে সে। অপরদিকে পেছন থেকে ট্রেন ছুটে আসছে। হঠাৎ একটা ধাক্কা। মিশৌরি ছিটকে গিয়ে প্লাটফর্মে পড়লো। তার সাথে আরো একজন পড়েছে। মাত্র দশ সেকেন্ডের ব্যবধানে ট্রেন ক্রস করে গেল। ছিটকে পড়ে মিশৌরি হাতে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছে। আর তার পাশের ছেলেটির কপাল কেটে রক্ত পড়ছে। মিশৌরি ভয় পেয়ে বলল,
-- আপনার কপাল দিয়ে তো রক্ত পড়ছে।
ছেলেটি কপালে হাত দিয়ে হাতে রক্ত দেখে বলল,
-- ওয়াও, অল ক্রেডিট গোজ টু ইউ।
মিশৌরি তাড়াহুড়া করে উঠে পড়ল। ছেলেটি আবার বলল,
-- আমি কি পড়েই থাকবো নাকি আমাকে টেনে
তুলবেন। পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছি।
মিশৌরি সংকোচ বোধ করছিল তারপরেও ছেলেটির হাত ধরে টেনে তুললো। বৃষ্টি তখনো চলছে। সামান্য দূরে যেই দুই একজন লোক তাদের দেখতে পেয়েছে তারা দৌড়ে আসছে। তারা ভেবেছে কেউ হয়তো ট্রেনে ধাক্কা খেয়েছে। কিন্তু পরে কাছে এসে জানতে পারলো দুর্ঘটনাবশত তারা পড়ে গেছে।
বৃষ্টি থামলে এই এলাকার একজন লোক তাদের সামান্য দূরে একটা ফার্মেসিতে নিয়ে গিয়ে কপালে, হাতে, পায়ে ব্যান্ডেজ করিয়ে দিল। তারপরে লোকজন চলে গেলে ছেলেটি ফোনের ক্যামেরা অন করে নিজের চেহারাটা দেখে বলল,
-- বাহ্, খুব একটা খারাপ লাগছেনা নতুন লুক।
মিশৌরি বলল,
-- আপনি কি পাগল? আপনি আমার ওপরে
ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন কেন?
-- শখে।
-- হোয়াট?
-- আপনি সুইসাইড করতে যাচ্ছিলেন কেন?
একটা জীবনের কত মূল্য আপনি বোঝেন?
কার জন্য সুইসাইড করতে যাচ্ছিলেন? বাবা
মায়ের কথা একটা বারও মনে পড়লো না।
একসাথে একাধিক প্রশ্ন মিশৌরির দিকে ছুঁড়ে দিল ছেলেটি। তারপরে নিজের বুকে হাত দিয়ে বুকটা চেপে ধরলো। মিশৌরি চমকে গিয়ে বলল,
-- আপনার কি কোন সমস্যা হচ্ছে?
-- না পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছি জাস্ট। আপনি
আমার প্রশ্নের উত্তর দিন।
-- আমি সুইসাইড করতে যাচ্ছিলাম না।
-- তাহলে?
-- আমি এমনিতেই হাটছিলাম।
-- ওহ্, আপনার মাথায় সমস্যা আছে? রাত
আটটার সময় কে রেললাইনে হেটে বেড়ায়?
মিশৌরি চুপ করে থাকলো। দুজনেই খুব বাজেভাবে ভিজে আছে তার ওপরে পড়ে গিয়ে জামাকাপড়ে কাঁদা লেগে গেছে। মিশৌরির জবাব না পেয়ে ছেলেটি বলল,
-- আমি দিহান। আপনি?
-- মিশৌরি।
-- কেন? আপনি কি মিশরে জন্মেছিলেন?
মিশৌরি আড়চোখে তাকালো। দিহান বলতে শুরু করলো,
-- যাই হোক, আপনি এখন কোথায় যাবেন?
-- কোথাও না।
-- মানে, ফাইজলামি? বাসায় আপনার বাবা মা
টেনশন করছে। এতক্ষণে তারা হয়তো
কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে।
দিহান কথাটা বলতেই মিশৌরির চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি ঝরে পড়লো। দিহান এতক্ষণ বকবক করলেও এবার বেশ অবাক হলো। মিশৌরি অন্ধকার আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল,
-- আমার বাবা মা নেই।
দিহান বলল,
-- সরি, আই ডিডেন্ট মিন টু হার্ট ইউ।
-- ইটস ওকে।
-- আপনি তাহলে কোথায় থাকতেন?
-- আমার মামা মামীর সাথে।
-- তাহলে নিশ্চয়ই উনারা চিন্তা করছে
আপনাকে নিয়ে। তাদের তো একটা দায়িত্ব
আছে।
-- হ্যা, মামী অবশ্য অনেক চিন্তা করছে। তবে
আমাকে নিয়ে নয়। আগামীকাল একটা বাজে
লোকের সাথে আমার বিয়ে দিয়ে মামী যে
বোঝা মুক্ত হতো তা হলো না। সে নিয়ে
নিশ্চয়ই তিনি ভেঙ্গে পড়েছেন। আর আমার
মামা প্যারালাইজড। উনার এসব ভাবার মতো
সক্ষমতা নেই।
দিহান কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল। তারপরে বলল,
-- কিন্তু অনেক রাত হয়ে যাচ্ছে আপনি এখন
কোথায় যাবেন?
-- জানিনা।
-- কোনো বান্ধবীর বাড়ি?
-- না। পরিচিত যেখানেই যাই না কেন মামী
আমাকে খুঁজে বের করবে। নতুন করে কারো
ঝামেলার কারণ হতে চাইনা আমি। কারণ এর
পরের পরিণতি মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ হবে।
আপনি আমাকে বাঁচিয়ে আমার উপকারের
চেয়ে বরং ক্ষতি'ই বেশি করেছেন।
-- আপনি যে একটু আগে বললেন আপনি
সুইসাইড করতে যাচ্ছিলেন না।
মিশৌরি এবার চুপ করে থাকলো।
সামনে কিছুটা পথ খুড়িয়ে হেটে দিহান দাঁড়িয়ে পড়লো। বলল,
-- আপনি আমার সাথে যাবেন?
-- না না। আমি কিভাবে আপনার সাথে যেতে
পারি? আমি তো আপনাকে চিনি পর্যন্ত না।
-- ভরসা করতে পারেন। যতদিন আপনার
কোথাও যাওয়ার ব্যবস্থা না হয় ততদিন
থাকবেন। আমার ফ্যামিলি মেম্বারদের কোন
আপত্তি থাকবে না।
-- হাউ ক্যান আই ট্রাস্ট ইউ? আপনি সম্পূর্ন
অজানা একটা লোক। আমি আপনার সাথে
কেন যাবো? এখানে আমার কি সেফটি?
-- একটু আগে যে আপনি মরতে যাচ্ছিলেন,
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমি আপনাকে
বাঁচিয়েছি তা নাহলে বিচ্ছিন্ন লাশ হয়ে
রেললাইনে পড়ে থাকতেন। বা যদি এখানে
রাতভর থাকতেন কোন না কোন বিপদে
পড়তেন। এত রিস্ক নিতে পারলে একবার
বিশ্বাস করার রিস্ক নিয়ে দেখুন।
অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে মিশৌরি বলল,
-- আপনার বাড়িতে কে কে আছে?
-- আমার বাবা, মা আর আমি।
-- আপনি একটা বাইরের মেয়ে নিয়ে এত রাতে
বাড়িতে প্রবেশ করবেন, আপনার বাবা মায়ের
আপত্তি থাকবে না?
-- সামনাসামনি তাদের রিএকশন দেখুন জাস্ট।
তাহলেই বুঝতে পারবেন।
মিশৌরি দিহানের সাথে তার বাড়িতে যেতে সম্মতি জানালো।
স্টেশন থেকে দিহানের বাড়ি ঘন্টাখানেক দূরে। গাড়ি এসে থামলো দিহানের বাড়ির সামনে। পুরো বাড়ি আলোকসজ্জায় সাজানো। মিশৌরি কিছুই বুঝতে পারলো না। দিহান ওকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ঢুকলো। বাড়িতে অনেক বাইরের মানুষ। সবাই সেজেগুজে আছে। এখানে কোন অনুষ্ঠান চলছে তা মিশৌরি ভালোই বুঝতে পারলো। দিহানকে দেখে সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে থমকে গেল। দিহানের মা ছুটে এসে বলল,
' কখন থেকে তোমাকে ফোন দিচ্ছি? তোমার
কি কোন কান্ডজ্ঞান আছে যে আজ তোমার
এঙ্গেজমেন্ট ছিল। আর তোমার কপালে কি
হয়েছে? আর তোমার সাথে এই মেয়েটি কে?'
দিহান চুপ করে আছে। সবাই ওকে এটা সেটা বলে বকাবকি করছে। দিহান শান্ত গলায় বলল,
' এটা আমার হবু বউ।'
মিশৌরি চমকে উঠে দিহানের দিকে তাকালো। দিহান মিশৌরির হাত ধরে বলল,
-- ওর নাম মিশৌরি। আমি ওকে ভালোবাসি।
আমি ওকে বিয়ে করবো। ওকে ছাড়া অন্য
কাউকে বিয়ে করা আমার পসিবল না।
সবাই হা করে দাঁড়িয়ে আছে। দিহানের যার সাথে এঙ্গেজমেন্ট হওয়ার কথা ছিল সেও অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মিশৌরির মাথা বনবন করে ঘুরছে। কোন ফাঁদ থেকে কোন ফাঁদে পড়তে চলেছে সে। কার বিয়ে ভাঙার কারণ হতে চলেছে সে? আর তাকেই কেন নাটকের অংশ বানানো হচ্ছে কিছুই ওর মাথায় ঢুকছে না। দিহানের মা হতবাক হয়ে বলল,
-- তুমি কি মজা করছো?
দিহান খুব স্বাভাবিকভাবে উত্তর দিল,
-- না আম্মু, তুমি ভালোভাবেই জানো আমি মজা
করি না।
দিহানের বাবাও বেশ স্বাভাবিকভাবে দাঁড়িয়ে আছে যেন এখানে সবকিছু সঠিকভাবেই চলছে। একে একে আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কানাকানি হতে শুরু করলো। অনুষ্ঠান পন্ড হয়েছে বুঝতে পেরে বাইরের আত্মীয়স্বজন বিদায় নিতে শুরু করেছে। যাওয়ার আগ দিয়ে দিহানের হবু শ্বশুরমশাই বলে গেল,
-- এটা তুমি না করলেও পারতে।
বলে তারা বিদায় নিল।
সবাই চলে গেলে দিহান মিশৌরিকে বলল,
-- আপনি ফ্রেশ হয়ে নিন। আমি আপনাকে
ওয়াশরুম দেখিয়ে দিচ্ছি।
-- এসবের মানে কি? আপনার আমার সাথে
কিসের বিয়ে? আমি আপনাকে বিশ্বাস করে
এখানে এসেছি আর আপনি আমাকে নিজের
স্বার্থে ব্যবহার করতে চাচ্ছেন?
-- আমি আপনাকে ব্যবহার করছি না। আমি কি
ছেলে হিসেবে খুবই অযোগ্য?
-- আশ্চর্য ! এখানে যোগ্যতা অযোগ্যতার প্রশ্ন
কোথা থেকে আসছে। আমরা একে অপরকে
চিনি পর্যন্ত না।
-- মানুষ তো আস্তে আস্তেই মানুষকে চিনে যায়,
তাইনা? আর আমি তোমাকে কোনো প্রকার
জোর করছি না। তুমি যতদিন ইচ্ছা এখানে
থাকো। পরে আমি সবাইকে সত্যিটা বুঝিয়ে
বলবো।
-- আর ওই মেয়েটার সাথে আপনার বিয়ের কি
হবে?
-- তেমন কিচ্ছু হবে না। একটা নাটক বন্ধ হবে
জাস্ট।
মিশৌরি দিহানের কথার আগা গোড়া কিছুই বুঝতে পারছে না। দিহান আবার বলল,
-- আমাকে বিশ্বাস করতে পারো। আমি যা
করছি সবটা তোমার জন্য।
বলে দিহান মিশৌরিকে দোতলায় নিয়ে গিয়ে ওয়াশরুম দেখিয়ে দিল। তারপরে একটা গেস্ট রুমও দেখিয়ে দিল। মিশৌরি ব্যাগপত্র নিয়ে তার ঘরে ঢুকলো।
চারিদিকে তাকিয়ে মিশৌরি বেশ ভালোই বুঝতে পেরেছে দিহানেরা অনেক বড়লোক। কিন্তু মিশৌরির তাতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। তবে এঙ্গেজমেন্ট সচরাচর মেয়ের বাড়িতে হয়। এাসে ছেলের বাড়িতে হচ্ছে কেন তা মিশৌরি বুঝতে পারলো না। সে দ্রুত ব্যাগ থেকে ফোনের চার্জারটা বের করে ফোন চার্জে দিল। এতক্ষণ চার্জের অভাবে ফোন বন্ধ পড়ে ছিল। পাঁচ পার্সেন্ট চার্জ হতেই সে ফোন খুলে নাবিলকে একটা ফোন দিল। নাবিলের ফোন তখনও বন্ধ। মিশৌরি ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ চেক করে দেখলো নাবিল তাকে ব্লক করেছে। মিশৌরি ধপ করে বসে পড়লো। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। এবার সে স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছে যে নাবিল ইচ্ছা করেই স্টেশনে আসে নি। এসব ভাবতেই ভাবতেই তার দরজায় কেউ একজন কড়া নাড়লো। মিশৌরি তাড়াহুড়া করে চোখের পানিটা মুছে ফেলল। বাইরে থেকে দিহানের বাবা বলল,
-- আমি কি ভেতরে আসতে পারি?
মিশৌরি বলল,
-- জ্বী আসুন।
দিহানের বাবা ভেতরে প্রবেশ করলো। ভয়ে মিশৌরির হাত পা কাঁপছে। মুখোমুখি দিহানের বাবা। না জানি মিশৌরিকে কত অপমানের মুখোমুখি হতে হবে ভেবেই ওর কান্না চলে আসছে। দিহানের বাবা শান্ত গলায় বলল,
-- তোমার ভয়ের কিছু নেই মা। তুমি বসো।
মিশৌরি বসে পড়লো। দিহানের বাবা একটা চেয়ারে বসলো। তারপরে জিজ্ঞেস করলো,
-- তোমার নাম কি?
-- মিশৌরি জামান।
-- আমি জানিনা দিহান কেন তোমাকে এখানে
এনেছে। তাও আবার এমন একটা দিনে। তবে
আমি এটুকু নিশ্চিত জানি আমার বড় ছেলে
কোন ভুল কাজ করবে না। তুমি এখানে
সম্পূর্ন নিরাপদ। আর তোমার বাবা মা হয়তো
বাসায় চিন্তায় আছে তুমি এভাবে চলে
আসায়। আমি তাদের সাথে কথা বলবো। তুমি
তোমার বাবার ফোন নম্বরটা দাও।
মিশৌরি বলল,
-- আংকেল আমার বাবা মা নেই। তারা একটা
সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। আমার তখন দশ
বছর বয়স ছিল। তারপরে আমি আমার
মামার বাড়িতে বড় হয়েছি।
-- ওহ্। তাহলে তোমার অভিভাবক হিসেবে
তোমার মামার সাথে কথা বলতে হবে।
মিশৌরি শান্ত গলায় বলল,
-- তার দরকার নেই আংকেল। মামা
প্যারালাইজড হওয়ার পর থেকে স্পষ্ট কথা
বলতে পারে না। বেশিরভাগ ইশারায় বলে।
আর আমি ও বাড়ির সাথে সব সম্পর্ক
বিচ্ছিন্ন করে এসেছি। ঢাকায় আমার আর
কোনো আত্মীয় নেই।
-- ওহ্। তাহলে খুব শীঘ্রই তোমাদের বিয়ের
আয়োজন করা যাক।
মিশৌরি কি বলবে বুঝতে পারছিল না। সে মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে ছিল। দিহানের বাবা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
মিশৌরি ভাবছে, ' এ আমি কি মহা মসিবতে পড়লাম।' তারপরে ওর হঠাৎ মনে পড়লো ওর একটা মামাতো বোন আছে যার সাথে মিশৌরি সবটা শেয়ার করে আসছে এতোদিন। সে তার মামাতো বোন দীবাকে ফোন দিয়ে বাড়ি থেকে পালানো থেকে রাত পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সব ডিটেইলস বলল। শুনে দীবা বলল,
-- তুই আর বাড়ি ফিরে যাস না। আমার মা
তোকে চাকরের মতো খাটায়। তুই বলে
এতদিন ও বাড়িতে ছিলি। মাকে বারবার বারণ
করেছিলাম কোন আজেবাজে ছেলের সাথে
তোর বিয়ে ঠিক না করতে। কিন্তু শোনে নি।
ছয়মাস ঢাকায় আসিনি। ভেবেছিলাম এবার
যাবো। কিন্তু তোর বিয়ের কথা শুনে আমি
রাগে বাড়িতে যাই নি। যা হয়েছে ভালোর
জন্যই। কিন্তু নাবিল কেন এলোনা বুঝলাম
না।
-- নাবিল আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক
করেছে আপু। সে আর আমার সাথে সম্পর্ক
রাখবে না এটা সে বুঝিয়ে দিয়েছে।
-- আচ্ছা দিহান ছেলেটা কেমন?
-- আমি কিচ্ছু জানিনা। জাস্ট এক্সিডেন্টের পরে
আমি এখানে এসেছি কারণ আমি কোথায়
যাবো কিছুই বুঝছিলাম না। এসে এসব কান্ড
দেখছি।
-- আচ্ছা তাড়াহুড়ার দরকার নেই। তুই জেনে
বুঝে ডিসিশন নিবি। কোন প্রবলেম হলে
আমাকে জানাবি। সাবধানে থাক। রেস্ট কর।
কাল কথা হবে।
-- আচ্ছা।
বাড়ির কাজের লোক সঙ্গে এনে দিহান মিশৌরির রুমে খাবার দিয়ে গেল। সকাল থেকে না খেয়ে ছিল মিশৌরি। কিন্তু এসবের মধ্যে তার খাওয়ার রুচিটাই হারিয়ে গেছে। দিহান বলল,
-- খেয়ে নিও। ব্যাথার ওষুধ এটা। কোন প্রবলেম
হলে আমাকে জানিয়ো।
মিশৌরি বলল,
-- আচ্ছা আপনি এগুলো কেন করছেন?
-- আমি সবটা জানাবো। একটু ধৈর্য ধরো প্লিজ।
মিশৌরি আর কিছুই বলল না। সে শুধু চিন্তিত মুখে বসে থাকলো। দিহান রুম থেকে বেরিয়ে গেল।
চলবে...
গল্প: অন্তর্জাল
লেখনীতে: নূর-এ সাবা জান্নাত
Comments
Post a Comment