ঈশ্বরও ন্যায় বিচার করতে কার্পণ্য করেন না
নিপা হুট করে একখানা চিঠি লিখে আমায় ছেড়ে চলে গেলো!
আমি কিছুদিন দিকভ্রান্তের মতো ছুটে বেড়ালাম। নিপাকে খুঁজে ফিরলাম। পেলাম না কোথাও।
বেশ কয়েকদিন পরে একদিন, বারান্দায় দাড়িয়ে সিগারেট ফুঁকতে খেয়াল করলাম রেলিং এর এককোণে একটা শালিক পাখি দাঁড়িয়ে, অথচ পাখিটার একটা পা নেই। আমি একটু চমকালাম। এরপর থেকেই আমার মনে হতে লাগলো পাখিটি আমাকে ফলো করছে।
একটা পাখি আমাকে কেন ফলো করবে আপনিই বলেন স্যার?
- সাজিদ সাহেব!
- স্যার আপনি নিশ্চয় এখন বলবেন আমার ভ্রম এটা! কিন্তু পাখিটা আমাকে ফলো করতে আপনার চেম্বার পর্যন্ত চলে এসেছে। আপনার চেম্বারের সামনেই হয়তো আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
- আপনার স্ত্রী চলে গেছেন কতদিন হলো?
– স্যার বছর খানেক হবে সামনেই। প্রায় এগারো মাস ধরে পাখিটি আমাকে ফলো করছে স্যার। আপনি কি আমার কথা বিশ্বাস করছেন?
- আমি বিশ্বাস করছি পাখিটি আপনাকে ফলো করছে এবং চেম্বারের বাহিরে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। আমি জানতে চাচ্ছিলাম পাখিটির কোন পা নেই আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন?
- ডান পা নেই স্যার।
- আপনি কি থানায় মিসিং কমপ্লেইন করেছিলেন?
– করেছিলাম স্যার উনারা বলেছে যারা নিজে থেকে চলে যায় তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
- আচ্ছা আপনার স্ত্রী আপনাকে যে চিঠিটি লিখেছিলো আপনার কাছে কি চিঠিটি এখন আছে?
- না স্যার বাসায়।
- আপনাদের কি লাভ ম্যারেজ?
- জি স্যার
- শ্বশুরবাড়ি তে জানিয়েছেন কিছু?
- স্যার প্রেম করে বিয়ে করার জন্য নিপার বাবা মায়ের সাথে সম্পর্ক খারাপ। উনারা আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ রাখেননি।
- আপনি কিছু মনে না করলে একটু কষ্ট করে বলবেন উনি চিঠিতে কি লিখেছেন?
- স্যার লিখেছিলো “তোমাকে দেখলে এখন আমার প্রচন্ড রাগ লাগে। তুমি প্লিজ আমাকে খুঁজতে যেও না। কোনদিন আমার সামনেও এসো না। আমি তোমাকে ঘৃণা করি সাজিদ।“ কিন্তু বিশ্বাস করেন স্যার ওর আমাকে ঘৃণা করার কোন কারণ আমি খুঁজে পাইনি। কোনদিন উঁচু গলায় একটা ধমকও দেইনি। আমি ওকে ভালোবাসি, প্রচণ্ড ভালোবাসি।
- আচ্ছা বলুন তো আপনার ঘুমে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা?
- আমি ঘুমাতে পারছিনা। বিছানায় শুতে গেলে মনে হচ্ছে শালিক পাখিটি আমার রুমের এপাশ থেকে ওপাশ উড়াউড়ি করছে। আমি কোন কাজে মনযোগ দিতে পারছিনা। নেহাতই নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দেখে রক্ষা। ম্যানেজার কাজকর্মের দিকটা সামলে নিচ্ছে।
- আচ্ছা আমি আপনাকে কিছু ওষুধ লিখে দিচ্ছি আপনি এগুলো নিয়ম করে খাবেন। আর আগামীকাল আপনার স্ত্রীর লেখা চিঠিটা নিয়ে কি আমার সঙ্গে একবার দেখা করতে পারবেন।
- জি পারবো।
- আপনি তাহলে কালকে বিকেলে আসেন। চলুন আমি আপনাকে এগিয়ে দিচ্ছি।
প্রেসক্রিপশনটা হাতে নিয়ে সাজিদ সাহেব বের হলেন। তাকে চেম্বারের গেইট পর্যন্ত এগিয়ে দিতে এসে সাইক্রিয়াটিস্ট নাঈমুদ্দিন নিজেই চমকে গেলেন। তিনি প্রাথমিক ভাবে ডায়াগোনিস করে ভেবেছিলেন সাজিদ সাহেব হয়তো সিজোফ্রেনিয়ার পেশেন্ট। কিন্তু শালিক পাখিটি তার ধারণা উলটে দিলো । সাদারঙের এক্সিও গাড়িটার উপরে শালিক পাখিটি একপায়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে। কি অদ্ভুত! নাঈমুদ্দিন একবার চোখ বন্ধ করে আবার চোখ খুললেন। নাহ পাখিটি তখনো ওখানেই স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। সাজিদ সাহেব গুটিগুটি পায়ে উনার গাড়ীটির দিকে এগিয়ে যেতে লাগলেন।
.
পরেরদিন বিকেলে নাঈমুদ্দিন তার চেম্বারে সাজিদ সাহেবের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সাজিদ সাহেব পৌনে পাঁচটার দিকে তার চেম্বারে ঢুঁকলেন। গতকালকের তুলনাই আজকে উনাকে একটু সজীব দেখাচ্ছিলো। বয়স ত্রিশ না পেরোতেই সাফল্য যে ছেলের পায়ে লুটোপুটি খাচ্ছে সেও সুখে নেই। সাফল্যের সাথে সুখী হওয়াটাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সাজিদ সাহেব চেম্বারে ঢুঁকে বসতে বসতে নাঈমুদ্দিন কে সালাম দিলো।
- আসসালামুআলাইকুম স্যার
– ওয়াআলাইকুমুসসালাম সাজিদ সাহেব কেমন আছেন? ঘুম কেমন হয়েছে?
– স্যার রাত থেকে আজকে দুপুর পর্যন্ত টানা ঘুমিয়েছি। একটু স্বস্তি লাগছে । কিন্তু ঘুম থেকে উঠার পরেই আবার সেই পাখিটা দেখতে পাচ্ছি স্যার।
– আপনাকে কিছু একটা আনতে বলেছিলাম এনেছেন কি?
– হ্যা স্যার এই নিন চিঠিটা।
- চিঠিটা আমি রাখলে সমস্যা নেই তো?
– না স্যার সমস্যা নেই।
- আবার ফেরত দিয়ে দিবো। চলুন আজকে আমরা চেম্বারে না বসে একটু রমনা পার্কে গিয়ে গল্প করি।
.
কিছুক্ষণ আগেই একপশলা বৃষ্টি হয়েছে। রমনা পার্কে লেকের পাশ ঘেসে যে রাস্তাটা গিয়েছে সেটা এখনো ভেজা। গাছের পাতা গুলো থেকে টুপটাপ পানি পড়ছে। মাঝে মধ্যে হাল্কা বাতাসে গাছের পাতা থেকে পানি গুলো একসাথে ঝরে পড়ছে। তাদের থেকে একটু দূরে ওড়াওড়ি করছে একটি শালিক পাখি। যার ডান পা নেই। নাঈমুদ্দিন সন্তোপর্নে খেয়াল করলেন ব্যাপারটা। সেই রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে সাজিদ সাহেব কে প্রশ্ন করলেন
- আপনাদের প্রেমের শুরুটা কিভাবে?
- স্যার কবিতা দিয়ে। একসময় কবিতা লিখতাম। সেই কবিতা পড়েই নিপার নাকি আমাকে ভালোলেগেছিলো। আর আমার নিপাকে ভালোলেগেছিলো নিপার চোখজোড়া দেখে। ভীষণ শুদ্ধ একজোড়া চোখ।
- বাহ কবিতা তো আমারো ভালো লাগে। আপনার প্রিয় কবি কে ছিলেন?
- পুর্ণেন্দু পত্রী
- পুর্ণেন্দু পত্রীর “তোমার বিষাদ্গুলি” আমার ভীষণ পছন্দের একটি কবিতা।
- মানুষের ভীষণ বিষাদ
একদিন বেজেছে মন্দিরে শঙ্খ-ঘন্টা রবে।
মানুষের মহান বিষাদ
ভাষ্কর্যখচিত স্তম্ভে একদিন ছুঁয়েছে আকাশ।
আজ ভীষণ নীরব।
জলের ভিতরে ছুরি ঢুকে গেলে
আর্তনাদহীন।
রক্তের ভিতরে কান্না ঢুকে গেলে
প্রতিবাদহীন।
মাঝখান থেকে আবৃত্তি করলাম স্যার পুরোটা এখন মনে আসছে না।
- বাহ আপনি তো দেখছি আবৃত্তিও চমৎকার করেন। আমার ভীষণ আগ্রহ হচ্ছে আপনার কবিতা গুলিও পড়ার। পড়ার সুযোগ করে দেবেন তো?
- কি যে বলেন স্যার। আপনি এত ব্যস্ত মানুষ । আপনার সময় হবে এসবের জন্য?
– আরে হবে হবে। আমি এতটাও ওয়ার্কোহলিক না।
- ঠিকাছে স্যার পড়তে দেব আপনাকে।
.
বাসায় ফিরে নাঈমুদ্দিন সাজিদ এর মানসিক সমস্যাটা নিয়ে বেশ চিন্তিত। এমন অদ্ভুত কেস তার বিশ বছরের কর্মজীবনে এই প্রথম। যেখানে প্রাথমিক ভাবে শনাক্ত করা হচ্ছে সিজোফ্রেনিয়ার পেশেন্ট হিসাবে। কিন্তু তাহলে শালিক পাখিটার থাকার কথা না। যদি পাখিটি রোগীর কল্পনা হয় সে কেন দেখবে। কিছু একটা আছে যা নাঈমুদ্দিন ধরতে পারছেন না। কোথাও কিছু একটা মিলছে না। নাঈমুদ্দিন নিপার লেখা চিঠিটা হাতে নিয়ে অস্থির ভাবে পায়চারি করতে থাকে।
.
একদিন বিকালে সাজিদ সাহেবের ড্রাইভার এসে একটি ডায়েরী দিয়ে গেলো। ডায়েরীতে সাজিদের লেখা বেশ কিছু কবিতা আছে। নাঈমুদ্দিন ডায়েরী খুলতেই চমকে উঠলেন।
ডায়েরীটা রেখেই তিনি সাজিদ সাহেবের অফিসে গেলেন। সাজিদ সাহেব নেই। বিশেষ প্রয়োজনে ঢাকার বাহিরে গিয়েছেন। তিনি কথা বললেন সাজিদের ম্যানেজারের সাথে। জানতে পারলেন বিশেষ কিছু তথ্য। বছর খানেক আগে পুরনো ম্যানেজার কে টার্মিনেট করা হয়েছে। হুট করে এমন সিদ্ধান্তে অফিসের সবাই বেশ নড়েচড়ে ওঠে। সাজিদ অফিসেও বেশ শান্ত স্বভাবের। কোন কর্মচারীর সাথে উঁচু স্বরে কখনো কথা বলেন নাই আজ পর্যন্ত। এত পুরনো ম্যানেজারের চাকুরী চলে যাওয়াতে সবাই অনেক অবাক হয়। ম্যানেজারের সাথে সাজিদ সাহেবের আচারণ ছিলো বন্ধুর মতোই। নাঈমুদ্দিনের সামনে জট খুলতে থাকে।
নাঈমুদ্দিন ফিরে যান তার চেম্বারে। সাজিদ কে ক্ষুদেবার্তার মাধ্যমে দেখা করতে বলেন।
.
সাজিদ সাহেব পরের দিন টাংগাইল অফিসের ভিসিট শেষ করে বিকালেই দেখা করে নাঈমুদ্দিনের সাথে। জানালার পর্দা সরিয়ে দিয়ে বিকেলের নরম রোদ দেখতে থাকেন নাঈমুদ্দিন। রিসিপশন থেকে কল করা হয় নাঈমুদ্দিন কে। নাঈমুদ্দিন ভিতরে পাঠিয়ে দিতে বলেন। সাজিদ সাহেব চেম্বারে ঢুঁকে শান্ত ভাবে সালাম দেয় নাঈমুদ্দিন কে। নাঈমুদ্দিন সাজিদ কে বসতে বলে নিজেও এসে সাজিদের সামনের চেয়ারটাতে বসেন। বসতেই নাঈমুদ্দিনের চোখ যায় জানালার দিকে। জানালার বাহিরে শালিক পাখিটি ডান ঝাপটাচ্ছে। নাঈমুদ্দিন খুব ঠান্ডা স্বরে জিজ্ঞেস করেন
- নিপা কোথায় সাজিদ সাহেব?
সাজিদ একটু চমকে উঠে বলে
– আমি জানিনা স্যার। আপনি তো জানেন ওকে আমি অনেক খুঁজেছি কোথাও পাইনি। পুলিশও অনেক খুঁজেছে। কিন্তু চিঠিটা দেখার পরে তারাও আর কেসটাতে গুরুত্ব দেয় নি।
- সাজিদ সাহেব চিঠিটা আপনারই হাতের লেখা। পুলিশ কেসটা নিয়ে গুরুত্ব যে দেয়নি সেটা আমি বুঝতেই পারছি। কারণ তারা যদি সেভাবে ইনভেস্টিগেট করতো আপনি এভাবে খোলা ঘুরে বেড়াতে পারতেন না। পুলিশ কাস্টাডিতে থাকতেন। এখন বলুন তো নিপা কোথায়? সাজিদ ফুঁপিয়ে উঠে বিড়বিড় করে বলতে থাকে
- আমি তো ওকে ভালোবেসেছিলাম স্যার। প্রচন্ডরকমের ভালোবেসেছিলাম।
নাঈমুদ্দিন কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞেস করেন
– সাজিদ সাহেব নিপা কি বেঁচে আছেন?
সাজিদের চোখ জোড়া যেন ধক করে জ্বলে উঠলো। নাঈমুদ্দিনের একটু অস্বস্তি লাগলো সাজিদের দিকে তাকিয়ে থাকতে।
- স্যার আমি বুঝতে পেরেছিলাম ওর মধ্যে আর আমি নেই। আমি সব সময় ওর চোখে আমাকে দেখতাম। যেদিন থেকে ওর চোখের আমার জন্য মুগ্ধতা হারিয়েছে সেদিনই আমি বুঝেছি ।
- আপনাকে আর ভালোবাসলো না দেখে আপনি এতবড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন?
– স্যার আমি হেরে গেলাম, আমার নিজের ভালোবাসার কাছেই হেরে গেলাম। আমারই ম্যানেজারের সাথে সে নিজেকে জড়িয়ে নিলো।
- আপনি এভাবে কেন দেখলেন ব্যাপারটা যে আপনি হেরে গেছেন? আপনি ভালোবেসেছিলেন, সে সেই ভালোবাসা নিতে পারলো না এখানে হার আপনার নয়। যে নিতে পারলো না বরং তার।
- স্যার আমারই স্ত্রী আর ম্যানেজার আমাকে ঠকালো
- আমি হয়তো ভুল ও হতে পারি। কিন্তু আপনার স্ত্রী আপনার প্রেমে পড়েছিলেন আপনার কবিতা পড়ে। বিয়ের পরে আপনি যখন আপনার ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন । আর কবিতা লিখতে পারলেন না। আপনার স্ত্রী মুগ্ধতা হারালো। ঝুঁকে পড়লো অনৈতিক একটা সম্পর্কের দিকে। মানুষের চোখ প্রায় সময় মনের কথা বলে দেয়। আপনি বুঝলেন আপনার স্ত্রীর কোথাও আপনি নেই। এত ভালোবাসার পরেও নিজের ত্রুটি খুঁজে না পেয়ে আপনি রাগে ক্রোধে নিজেই নিজের স্ত্রীকে খুন করলেন। এবং বাঁচার জন্যে স্ত্রীর হয়ে নিজেই চিঠি লিখলেন। এদিকে আপনার পূর্বের ম্যানেজারও ছিলো বিবাহিত। তাই আপনার স্ত্রীর চলে যাওয়া নিয়ে উনিও মান সম্মান বাঁচাতে চুপ করে রইলেন। কেউ জানতে পারলো না কিছুই। আমি কি ভুল কিছু বললাম। সাজিদ মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়।
- এখন বলেন তো কিভাবে হত্যা করলেন? দাফন করেছেন কোথায়?
- দাফন করিনি স্যার। টুকরো করে রাস্তার ক্ষুধার্ত কুকুর গুলোকে খাইয়ে দিয়েছিলাম সেই রাতেই। আপনি একটু ভুল বলেছেন স্যার কেউ জানতে পারলো না এটা ভুল। একজন ভিক্ষুক দেখেছিলো যার ডানপা ছিলো কাটা।
- অনেক প্রশ্ন করতে ছিলো কুকুর কে খাওয়াতে দেখে। রাগে জিদে উনাকেও তখন গাড়ী চাপা দিয়েছিলাম।
লাস্টের কথাটা শুনে নাঈমুদ্দিন একটু চমকালো। সাদা পোশাকে পুলিশ বাহিরে অপেক্ষা করছিলো সাজিদকে নিয়ে গেলো।
নাঈমুদ্দিন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। প্রকৃতি রহস্যময় আচারণ করে অনেক সময়। জানালার বাহিরে পাখিটিকে আর দেখা যাচ্ছেনা। প্রকৃতি স্বয়ংক্রিয় ভাবেই কারো অন্যায় ঢেকে রাখে না। ঈশ্বরও ন্যায় বিচার করতে কার্পণ্য করেন না।
.
লিখা- সাদিয়া আফরিন সঞ্চিতা
ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো।
Comments
Post a Comment