ভালোবাসি মেয়ে তোমাকে খুব বেশি
ছোট বোনের ন্যায় যখন বড় ভাই টাও পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করল তার পর থেকে সবার চোখে আমিই একমাএ অভাগা রূপে দ্রাবিত হলাম।তখন হয়তো সবাই ভেবে নিয়ে ছিলো ভাই-বোনের ন্যায় আমিও পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করব।সমাজের মানুষ গুলো নানান কথা বলত আমার দিকে তাকিয়ে। তারা যে এমনি।আমি কিছু মনে করতাম না তাতে।কিন্তু বাবা নামক মানুষটির জন্য খারাপ লাগতো আমার,তার দিকে তাকালে কেমন যেনো কষ্ট হতো আমার।
আগে এই বাবা নামক মানুষটি রাগী ছিলো খুব,তার চোখের দিকে তাকাতেও ভয় হতো খুব।এখন আর তার চোখে বা চেহারার মধ্যে আগের সেই রাগী ভাবটা দেখা যায় না।কেমন যেনো হয়ে গিয়েছেন মানুষটা।
ছোট বোনের ন্যায় যখন আমার বড় ভাই টাও পালিয়ে বিয়ে করল তখনও আমি এই মানুষটাকে এমন নরম হয়েই থাকতে দেখেছি।
প্রিয়ন্তীর সাথে এখন আর আমার কথা হয়ে উঠে না,হয়না দেখা।প্রায় দু'বছরের সম্পর্ক টাকে আমি আর সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি না,ভয় হয় আমার পালিয়ে বিয়ে করার ভয়।
ওর সাথে আমার শেষ কথা হয়েছিলো আজ থেকে তিন দিন আগে।তাকে বলেছিলাম আমার ভাই আর বোনের পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার গঠনাটা।সেদিন মেয়েটি আমাকে কিছু বলেনি।হয়তো বলার মতো কোনো শব্দ সে খুজে পায়নি।
এর প্রায় আরও দেড়-দুয়েক দিন পর মেয়েটির সাথে আমার রাস্তায় দেখা হয়।কেমন যেনো হয়ে গিয়েছিলো মেয়েটি,হয়তো ঠিক মতো খায়নি বা ঘুমায় নি।
জানো নয়ন আমার না নিজেকে শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে।আমি আর পারছি না,একদমই পারছি না।তুমি তাদের অপরাধের শাস্তি টুকু আমায় কেনো দিচ্ছো নয়ন।আমি তো তোমাকে,,,
আমি আর তাকে কিছু বলতে না দিয়ে, দু-হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে চলে এসে ছিলাম তার সামনে থেকে।
আজ বাবার সাথে বের হলাম বাজারের দিকে হাঁটছি দু'জনেই। তেমন একটা কথা হয় না মানুষটার সাথে।আগের ন্যায় এখনও আমি ভয় পাই এই মানুষটাকে। তার রাগী চেহারা টাকে নয়,তার সম্মান টাকে।
সমাজ এর মানুষ গুলো কেমন যেনো আজও তারা খারাপ কথা এবং অপমান করতে একবারও ভাবে না।বুঝতে চায় না তাদের ভিতরের মনটাকে।
ঘৃন্ন্যা হয় আমার।
সবে গ্রামের বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার চাকরি টা পেলাম,আর তার মাঝেই বাবা বললো কাল নাকি মেয়ে দেখতে যাবে।ভালো লাগে না আমার,মন খারাপ হয় খুব,,
আজও যে ভুলা হয়নি প্রিয়ন্তীকে।সে কি এখন অন্যতে মিশ্রিত হয়ে গেছে,নাকি।ভাবা হয় না এই নিয়ে আর।
হুম বাবার সাথে চললাম মেয়ে দেখতে।অনিচ্ছা থাকার স্বত্বেও।এতে যদি বাবা খুশী থাকে এই ভেবে।থাকবে তো বাবা খুশী।
সেই চিরচেনা মুখটির দেখা আবার পাবো ভাবিনি আমি কখনো।হুম,প্রিয়ন্তী।।
ওর চোখে তাকিয়ে হাসলাম আমি একটু।তৃপ্তির হাসি।কিছু পাওয়ার হাসি যাকে বলে।
বাবা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুটা সময়।
কিন্তু কিছুই বলে না।
হুম সেদিন প্রিয়ন্তীর সাথে আমার বিয়েটা পাকাপোক্ত করেই আসেন বাবা।আমি ভাবি বাবা কি করে এই মেয়েটি সন্ধান ফেলো।তাহলে কি,,,,,
তুই আমার কথা ভাবতে গিয়ে এই মেয়েটিকে কতটা কষ্ট দিয়ে ফেলেছিস তুই কি তা জানিস।কই তোর ন্যায় তো তোর ছোট বোন আর বড় ভাই ভাবেনি এমনটা করে।তুই ক্যান ভাবতে গেলি হুম।জানিস মেয়েটি যেদিন ফোন দিয়ে তোদের সম্পর্কের কথা জানায় আমাকে সেদিন অনেক কেঁদেছিলো মেয়েটি।তখন তোর ন্যায় না আমার আরও খারাপ লাগাটা বেড়ে গেলো।মেয়েটি প্রায় ফোন দিয়ে তোর কথা জিজ্ঞেস করত।বাবা আর কিছু বলেন না।
একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে আমার।নাম্বার টার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই প্রথম বারের ন্যায় কেটে যায়। সেই নাম্বার থেকে আবারও ফোন আসাতে রিসিভ করি আমি।অপর পাশ থেকে আমি কোনো শব্দ পাই না, আমি বুঝতে পারি এইটা প্রিয়ন্তী।
এতটা কেন ভালোবাসলে প্রিয়ন্তী তুমি আমায়,কেন ভালোবাসলে।মেয়েটি কিছু বলে না।
আমি আবারও বলি,,,
এখন থেকে অনেক ভালোবাসবো তোমায় মেয়ে।অনেক ভালোবাসবো।
মেয়েটি কান্না করে।ওর এই কান্নাটা আমার ভালো লাগে।এটাকে আমি প্রাপ্তির কান্না বলি।কিছু পাওয়া, না না অনেক বড় কিছু পাওয়া।
ভালোবাসি খুব তোমায় নয়ন।
আমিও অনেক ভালোবাসি তোমায় মেয়ে।অনেক ভালোবাসবো।অনেক।
গল্পঃভালোবাসি মেয়ে
(ভুল গুলো ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।উপহাস না করে ভুল গুলো ধরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে)
writer : Nayan Majumder Nayan
Comments
Post a Comment